মোঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- কক্সবাজার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে অপরাধ দমন, চোর-ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চোর-ছিনতাইকারী, মাদক সেবনকারী, বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মােঃ আলী " মানবাধিকার খবর "কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ২ জন চোর-ছিনতাইকারী, ৫ জন মাদক সেবনকারী, ৯ জন বিভিন্ন ধর্তব্য অপরাধে অভিযুক্ত এবং ২ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়
চোর-ছিনতাইকারী: গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন—উত্তর নুনিয়ারছড়া শিল্প এলাকার বাসিন্দা মো. সবুজ (৩০) এবং মোহাজেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. নেজাম উদ্দিন ওরফে নিজাম উদ্দিন (২৬)। তাঁরা উভয়েই কক্সবাজার সদর থানা এলাকার বাসিন্দা।
মাদক সেবনকারী: এ বিভাগে গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন—মো. জাবেদ (২৮), মো. হোসেন (৩২), মো. ফয়সাল প্রকাশ বাবু (২২), মো. আজিজ (২৮) এবং রুহুল আমিন (২৩)। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন কক্সবাজার পৌরসভার পাহাড়তলী, সমিতিপাড়া ও বাদশাঘোনা এলাকার বাসিন্দা। অপর একজন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা।
বিভিন্ন ধর্তব্য অপরাধে গ্রেপ্তার: এ বিভাগে গ্রেপ্তার নয়জন হলেন—তারেকুর রহমান (২১), তপু শর্মা (২১), মো. বাদশা (২২), সৈয়দ হোসেন (১৯), আবদুল আজিজ (১৯), মো. আলমগীর (১৯), আবছার প্রকাশ কালু (৩০), ইমরান (২৫) ও মো. আশেক (২৪)।
তাঁদের মধ্যে কয়েকজন কক্সবাজার পৌরসভার পশ্চিম কুতুবদিয়াপাড়া, নাজিরারটেক, ইছুলের ঘোনা ও আমিন মিয়ার লাইন এলাকার বাসিন্দা। অন্যরা কুতুবদিয়া ও টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশি তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশি নথি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া আবছার প্রকাশ কালুর বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় ২০১৫, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিভিন্ন মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে দণ্ডবিধির ৩৯৯/৪০২ ধারার উল্লেখ রয়েছে।
ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি: পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তার দুজন হলেন—মো. শামীম, পিতা মো. আমিন, মধ্যম কুতুবদিয়াপাড়া, ১ নম্বর ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা এবং মো. আরাফাত প্রকাশ কালাধন (২৭), পিতা মো. কালু, তাহের মোহাম্মদ ঘোনা, পিএমখালী, কক্সবাজার সদর।
অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের এ বিশেষ অভিযানে মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধ দমন, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রযোজ্য মামলার নথি ও পুলিশের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।