আদালত প্রতিবেদকঃ অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় পার্সিয়ান জাতের একটি অন্ত:সত্ত্বা বিড়ালের মৃত্যুর অভিযোগে ঢাকার গুলশানস্থ বাংলাদেশ এনিমেল কেয়ার সেন্টার (বিএসিসি) পোষা প্রাণী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ প্রতিষ্ঠানটির দুই চিকিৎসককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।গত ২৪ সেপ্টেম্বর
পোষা বিড়ালটির মালিক মো. আবিবুর রহমান পক্ষে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন শনিবার আইনজীবী মোহাম্মাদ জাহিদুর রহমান।যাদেরকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন, বাংলাদেশ এনিমেল কেয়ার সেন্টার (বিএসিসি) এর মালিক লাবন্য, ওই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক ডা. সোলাইমান হোসাইন ও ডা. মো. জুবায়ের।লিগ্যাল নোটিশে ৭ দিনের মাধ্যে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় পার্সিয়ান জাতের অন্ত:সত্ত্বা বিড়ালের মৃত্যুর জন্য মালিক লাবন্যকে দায়ী দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে নোটিশ প্রেরণকারী ৩ জনের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। লিগ্যাল নোটিশের অভিযোগে বলা হয়, নাটিশদাতার বিড়ালটির জন্ম ২০২০ সালের ১ মে বিড়ালটির জন্মের পর থেকে এনিমেল কেয়ার সেন্টার (বিএসিসি) চিকিৎসা করিয়ে আসছেন। গত ৫ সেপ্টেম্বও সন্ধ্যা ৭টায় বিড়ালটির গর্ভবর্তী কি না চেকআপের উদ্দেশ্যে বিএসিসিতে নোটিশ দাতা নিয়ে যান। সেখানে ডা. সোলাইমান হোসাইন বিড়ালটি চেকআপ করে র্যবিস ও ফ্লু টিকা পুশ করে ‘বিড়ালটি সন্তান সম্ভাবা, প্রাথমিক স্টেজে আছে। গর্ভে দুই/ বা দুই এর অধিক বিড়াল ছানা আছে। আপনার বিড়ালের স্বাস্থ্য ভালো আছে। গর্ভ ধারণের জন্য উপযুক্ত, রুচির ওষুধ দিলাম” বলে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন।
পরবর্তীতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিড়ালটি দূতগতিতে নিঃশাস নেয়া দেখে বিএসিসি প্রতিষ্ঠানের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করে রিসিভসনিষ্টের কথা অনুযায়ী হোয়াটসঅ্যাপে ইমারজেন্সি আসতে চান বলে বিস্তারিত লিখে পাঠান। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠা থেকে কোন প্রকার যোগাযাগ না করায় ওইদিন সন্ধ্যা ৭ টা ১৫ ঘটিকার সময় বিড়ালটির তখনকার অবস্থা বুঝাতে ২টি ভিডিও এবং একটি ভয়েস ম্যাসেজ পাঠান। ভিডিও এবং ভয়েস ম্যাসেজে সকাল থেকে নাকে সর্দি, চোখ ভেজা, ও জোরে জোরে নিশ্বাস নেয়া ও খেতে এবং নড়তে না চাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে বিড়ালটি আরও অসুস্থার কথা উল্লেখ করে ভিডিও এবং ভয়েস ম্যাসেজে পাঠিয়ে বিষয়টি সিরিয়াসলি নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে ডা, জুবায়েরকে বিড়ালটি ভিডিও কলে দেখান। তখন ডা. জুবায়ের পরামর্শ দেন যে, এটা এমন কিছু নয়, ওর বাচ্চা হবে, ওর পাশে কিছু কাপড় দিয়ে রাখেন, রুমটা অন্ধকার করে দিন, ও বাচ্চা দিবে। ডা. জুবায়েরের পারামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করে অবজারভেশন করতে থাকেন। কিন্তু বিড়ালটির অবস্থা আরও খারাপ হলে রাত ১০ টা ৫৩ মিনিটে বিড়ালটির ভিডিও পাঠান এবং একটি কল করে অবস্থা জানান। তখন ডা. জুবায়ের ইমারজেন্সি নিয়ে যেতে বলেন নোটিশ দাতাকে।বিড়ালকে নিয়ে রাত সাড়ে ১১ টায় পৌছানোর পর ডা. শিরোপা বিড়ালটিকে অক্সিজেন দিলে শ্বাস-প্রশ্বাসের উন্নতি হয়। এরপর ডা. শিরোপা বিড়ালটিকে একটি ইনজেক্সশন পুশ করেন। ইনজেক্সশন পুশ করার কিছু সময় পর বিড়ালটি শোয়া থেকে উঠে দাঁড়ায়। তখন তাকে আরও অসুস্থ দেখাচ্ছিল। এর কিছুক্ষণ বিড়ালটি মারা যায়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিএসিসিতে মালিক লাবন্যকে গিয়ে অভিযোগ করলে তিনি অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার বিষয়টি স্বীকার করেন।