বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   সারাদেশ
অপ্রতীম হত্যা: প্রথমে পরিবারকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করলেও জবানবন্দিতে দায় স্বীকার ফাহাদের
  Date : 24-09-2026

মােঃজানে আলম সাকী, ঢাকা:-  ​কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের কাছে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনের বিষয়ে প্রথম তথ্য দেন মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ। কেবল তথ্য দেওয়াই নয়, অপ্রতীমকে খুঁজে বের করতে পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে সহযোগিতাও করেন তিনি। আর এ কারণে শুরুতেই অপ্রতীমের পরিবার ফাহাদকে সন্দেহের বাইরে রেখেছিল।

পরিবারকে যেভাবে সহায়তার নাটক:

অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর রাতে তিনি ফাহাদকে ফোন করে অপ্রতীমকে দেখেছেন কি না জানতে চান। তখন ফাহাদ জানান অপ্রতীমের সঙ্গে তার দেখা হয়নি, তবে তুহিন নামের একজন পরিচিত ব্যক্তির কথা বলেন। পরবর্তীতে ফাহাদ তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন এবং নিখোঁজ অপ্রতীমকে খুঁজতে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। এমনকি তাদের একটি গ্রুপেও `অপ্রতীমকে পাওয়া যাচ্ছে না` বলে বার্তা দেন। সিসিটিভি ফুটেজে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতীমকে দেখা গেলে ফাহাদই সেই ব্যক্তি তুহিন বলে শনাক্ত করেন। নিখোঁজের পর রাত ১০টার দিকে ফাহাদের বাসার কাছে গেলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই বেরিয়ে আসেন এবং খোঁজাখুঁজিতে অংশ নেন। ফলে সে সময়ে পরিবার তাকে সম্পূর্ণ সহযোগী বলেই মনে করেছিল।

আইফোন ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ড:

পুলিশ জানায়, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনাটি করা হয়। ছিনতাইয়ের সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অপ্রতীমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে প্রথমে আঘাত করেন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯)। এরপর ফাহাদ এবং পরে মো. কামরুল হাসান (১৬) তাকে আঘাত করেন। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল তিনজনেই এই হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। অপ্রতীমের বাবাও মনে করছেন, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়াকেই কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

ফাহাদের পরিচয় ও ঘটনা পরবর্তী আচরণ:

অপ্রতীমের বাবার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ডেলিভারিম্যান হিসেবে গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে কাজ শুরু করেছিলেন ফাহাদ। কাজ শুরুর পর তার আচরণ ভালোই ছিল। অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তার ফোনটি উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। পরে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের স্থানে যাওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেলে ফাহাদও ছিলেন, তবে সেখানে গিয়ে অসুস্থতার কথা বলে তিনি সরে যান। পরবর্তীতে ফাহাদের নম্বর থেকে তুহিনের নম্বরে করা ফোনকলের সূত্র ধরে পুলিশ ফাহাদকে আটক করে।

মরদেহ উদ্ধার:

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তের মাধ্যমে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলের সম্পৃক্ততা উন্মোচিত হয়। অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দাবি জানিয়েছেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যেন প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত হয় এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানি বা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 37
  
  সর্বশেষ
বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিকের মৃত্যুর ৮ লাক্ষ টাকায় আপোষ কিশোর শরীফকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে
সায়েম স্যার`কে ফিরে পেতে চুয়েটে চলছে তৃতীয় দিনের শাটডাউন
অপ্রতীম হত্যা: প্রথমে পরিবারকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করলেও জবানবন্দিতে দায় স্বীকার ফাহাদের
কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান: হত্যা মামলার আসামিসহ গ্রেফতার ১০

Md Reaz Uddin Editor & Publisher
Editorial Office
Kabbokosh Bhabon, Level-5, Suite#18, Kawran Bazar, Dhaka-1215.
E-mail:manabadhikarkhabar11@gmail.com
Tel:+88-02-41010307
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-41010308