নিজস্ব প্রতিবেদক:-চট্টগ্রাম—মিয়ানমার সীমান্ত পার হয়ে কক্সবাজার ও বান্দরবানের বিকল্প ও পাহাড়ি পথ দিয়ে সারা দেশে ইয়াবার বিস্তার ঠেকাতে নতুন এক প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পুলিশ। সীমান্ত পার হওয়ার পরপরই ইয়াবার চালান যেন শহর বা দেশের অন্য স্থানে না যেতে পারে, সে জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক মুখ শনাক্তকারী (ফেস ডিটেকশন) ক্যামেরা ও আধুনিক স্ক্যানার বসিয়ে টেকসই নজরদারিবলয় তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কক্সবাজারের রামু, সদর, উখিয়া, চকরিয়া এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির মোট ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি নির্মাণ করা হবে। প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে মোট ৩১টি এআই-ভিত্তিক ক্যামেরা, ১৪০টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ৬টি ভেহিক্যাল স্ক্যানার, ৮টি লাগেজ স্ক্যানার এবং বিশেষ ডগ স্কোয়াড মোতায়েন থাকবে। এসব তল্লাশিচৌকি পরিচালনায় ৩২১ জন পুলিশ সদস্যের একটি দল কাজ করবে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় ও আধুনিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হবে মেরিন ড্রাইভের শেষ প্রান্ত ভাঙ্গার মোড়ে।
প্রযুক্তিভিত্তিক এই ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে চট্টগ্রাম রেঞ্জের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন যে, চিহ্নিত ও সন্দেহভাজন ইয়াবাকারবারি এবং তাদের সহযোগীদের ছবি এআই-ভিত্তিক সার্ভারে আগে থেকেই সংরক্ষিত রাখা হবে। কারবারিরা এসব তল্লাশিচৌকিতে প্রবেশ করা মাত্রই ফেস ডিটেকশন ক্যামেরা দিয়ে তাদের শনাক্ত করে ফেলবে পুলিশ। এছাড়া যানবাহনের গোপন স্থানে বা লাগেজে লুকানো ইয়াবা শনাক্তে স্ক্যানার ব্যবহৃত হবে এবং সেখানেও ধরা না পড়লে শেষ ধাপে প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড দিয়ে অনুসন্ধান চালানো হবে।
গত বছর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মিলে প্রায় পৌনে ৬ কোটি পিস ইয়াবা জব্দ করলেও পাচার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাদক পরিবহনের বিকল্প পথগুলো চিরতরে বন্ধ করতে এই সমন্বিত প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারিবলয় দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।