মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:- আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত বক্তাদের অংশগ্রহণে ভারতের দিল্লিতে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। আয়োজকদের হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, "কিছু বিতর্কের" কারণে এই আলোচনা সভার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
অনুষ্ঠান ও আয়োজকদের বিস্তারিত:
- সময়: শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮:৩০ মিনিট পর্যন্ত।
- স্থান: নয়া দিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (FCC)।
- বিষয়বস্তু: `ইনডো-প্যাসিফিক ডায়েলগ টু আ পার্টনারশিপ ফর ডেভেলপমেন্ট`।
- যৌথ আয়োজক: বেলজিয়ামভিত্তিক সংগঠন `হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন` এবং ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (এফসিসি)।
আমন্ত্রিত ও সম্ভাব্য বক্তাবৃন্দ:
- সেলিম মাহমুদ: বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক।
- নুরান নবী: মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী।
- অন্যান্য বক্তা: বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার, রোহিঙ্গা আন্দোলন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ, ইউনাইটেড ডিপ্লোমেটিক কাউন্সিল প্রতিনিধি আসিফ ইকবাল, এবং হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম জিলানিসহ অন্যেরা।
- আন্তর্জাতিক অতিথি: চেক রিপাবলিকের রাজনীতিবিদ ওন্দ্রেজ দোস্তাল এবং জার্মান রাজনীতিবিদ পিটার ফারেনহোল্টজ।
অনুষ্ঠান বাতিলের নেপথ্য কারণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষিত:
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ বিশদ কিছু জানায়নি, তবে সংশ্লিষ্ট মহল ও কূটনৈতিক সূত্রের ধারণা:
১. আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতা: এতে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সমর্থিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিশ্চিত ছিল।
২. অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো: অনুষ্ঠানে একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল। সেখানে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে কোনো বিরূপ মন্তব্য বা বিতর্ক সৃষ্টি হোক—দিল্লি পুলিশ তা চায়নি।
৩. বিগত অভিজ্ঞতার প্রভাব: গত ৫ আগস্ট এই এফসিসি ক্লাবেই বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতি এবং বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তখন বাংলাদেশ সরকার থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এবং এ ধরনের ‘অবাঞ্ছিত প্ররোচনা’ বন্ধের তাগিদ দেওয়া হয়।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ঢাকার সঙ্গে দিল্লির টানাপোড়েন ঘোচাতে এবং সুসম্পর্ক বজায় রাখতেই কোনো ধরনের অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি হতে দেয়নি দিল্লি পুলিশ।
আয়োজকদের প্রতিক্রিয়া:
এফসিসির সভাপতি ওয়াইল আওয়াদ গণমাধ্যমকে জানান, "অনুষ্ঠানটি ছিল পার্টনারশিপ ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা। আমি নিশ্চিত নই, দিল্লি পুলিশ ঠিক কী কারণে শেষ মুহূর্তে এর অনুমতি দিল না।"