| |
| কুড়িগ্রামে লাঠি হাতে আন্দোলনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা |
| |
|
|
|
|
|
|
|
| |
| |
|
| |
| |
| আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:- বিদ্যালয়ে আসেন না শিক্ষকরা। ক্লাশ রুমে রুমে তালা। দিনের পর দিন পাঠশালা বন্ধের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামল প্রাথমিকের শিশু শিক্ষার্থীরা। এ আন্দোলনের আগুন চরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।এমন ঘটনা ঘটেছে কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকার চরাঞ্চলে অবস্থিত খেওয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে গিয়ে সব কক্ষ বন্ধ দেখতে পায়। পরে তারা লাঠিসোটা হাতে আন্দোলনে নামে। এ সময় দলবদ্ধভাবে বন্ধ ক্লাশরুমের দরজায় লাথি মারতে দেখা যায়।শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষকরা ঠিকমতো স্কুলে আসেন না। সঠিক পাঠদান হয় না বিদ্যালয়টিতে।ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার আমাদের পাঠশালা বন্ধ কেন? স্যারেরা আসেন না কেন? অফিসাররা খোঁজ নেন না কেন? এমন প্রশ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে। চরের স্কুলগুলোর এ অবহেলা আর নীরবতার অবসান চান তারা।বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম, মাজেদুল, শিশু খাতুন, সামসুন্নাহার জানায়, শিক্ষকরা দিনের পর দিন স্কুলে আসেন না। সময়মতো পাঠদান হয় না। শিক্ষকরা যাতে নিয়মিত হয় সে লক্ষ্যে আন্দোলনে নেমেছে তারা।স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক আল আমিন জানান, দীর্ঘদিন থেকে বিদ্যালয়টির এমন অবস্থা। ৫ জন শিক্ষকের কেউ নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। বর্তমান প্রধান শিক্ষক ইসরাত জাহান দায়িত্ব নেওয়ার পর এ অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। আজকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেছে। পরে স্থানীয়রা গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন।খেয়ার আলগা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ ইসরাত জাহানের মোবাইল ফোনে কয়েক দফা ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল গফুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চরের স্কুলগুলোয় শিক্ষার নামে প্রহসন করা হচ্ছে। শিক্ষকরা সবাই শহুরে। কালেভদ্রে খেয়াল খুশিমতো আসেন আবার দ্রুত চলে যান। সঠিকভাবে পাঠদান করা হয় না। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার কিংবা সহকারী শিক্ষা অফিসার কেউ নজরদারি করেন না এসব অবহেলিত স্কুলে। ফলে মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত চরের শিশুরা।তিনি আরও বলেন, সোমবার খেওয়ার আলগার চরের শিশুরা নিজেদের অধিকার আদায়ে সমস্বরে চিৎকার করে স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছে- ‘শিক্ষকদের অনিয়ম বন্ধ করো, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করো!’ চরের শিশুদের ভবিষ্যতের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ প্রতিবাদ থামবে না!কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। শিক্ষকরা কেন বিদ্যালয়ে গেলেন না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
|
| |
|
|
|