মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা : মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের একটি নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আবেগ বা অনুমানের ওপর নির্ভর না করে প্রামাণ্য দলিল, সরকারি-সামরিক নথি এবং প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে এই তালিকা তৈরি করা হবে।
বুধবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তাত্পর্য ও কর্মপরিকল্পনা
- মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ: গ্রাম থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রশাসন, গবেষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
- প্রমাণ সংরক্ষণ: সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নিহত সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং নারীদের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই ও সংরক্ষণ করা হবে। তালিকাভুক্ত প্রতিটি নামের পেছনে দলিলের উৎস সংরক্ষণ করা হবে।
- ভুয়া তালিকা দূরীকরণ: সভায় জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করতে মন্ত্রণালয় অঙ্গীকারবদ্ধ। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দীর্ঘকাল ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় যে অনিয়ম ও ভুয়া অন্তর্ভুক্তি রয়েছে তা দূর করে নির্ভরযোগ্য ইতিহাস উপস্থাপন করা আবশ্যক।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এ কাজে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফুল ইসলাম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশভিশনের প্রধান সম্পাদক আবদুল হাই সিদ্দিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ।