খোকন মাহমুদ মানবাধিকার খবর প্রতিনিধিঃ- ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ৫০ নম্বর কুশঙ্গল নিকাড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে ঘিরে উঠেছে বিতর্ক। অভিযোগ, শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে দুই মাসের চিকিৎসাজনিত ছুটি নিলেও তিনি বর্তমানে বিদেশে স্বামীর কাছে অবস্থান করছেন। যদিও তার ছুটির আবেদনে বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
জানা গেছে, গত ১৬ জুন থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চিকিৎসাজনিত ছুটির আবেদন করেন সহকারী শিক্ষিকা আয়শা আক্তার শান্তা। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, অসুস্থতার কারণে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে কষ্টসাধ্য। তবে স্থানীয়দের দাবি, ছুটি নেওয়ার কিছুদিন পরই তিনি বিদেশে চলে যান।
এদিকে বিদ্যালয়টিতে আগে থেকেই একজন শিক্ষক ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর বর্তমানে মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তথ্যসূত্র কালবেলা।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফেরদাউস জানিয়েছেন, ছুটির আবেদন অনুযায়ী ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে। তবে তিনি লোকমুখে শুনেছেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা বিদেশে স্বামীর কাছে গেছেন। এ বিষয়ে তার সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো যোগাযোগ হয়নি।
অন্যদিকে নলছিটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আক্তার বলেছেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। ছুটির আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং বিধিবিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীরা চিকিৎসাজনিত ছুটিতে বিদেশে যেতে চাইলে সাধারণত নির্ধারিত প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এই ঘটনায় সেই বিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম বিষয় হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
আপনার কী মনে হয়?
যদি সত্যিই চিকিৎসার ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে থাকেন এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি না নিয়ে থাকেন, তাহলে কি এটি সরকারি দায়িত্বের অপব্যবহার?