মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:- বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাগুরার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) ও বর্তমানে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম বর্তমানে ঢাকায় অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হয়ে আছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ এই আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আজমত হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার পটভূমি ও তদন্ত
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী এক নারী। ট্রাইব্যুনাল মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে ১৪ জুলাই তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। আজ (২৭ জুলাই) আসামির উপস্থিতিতে তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণের বিষয় শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে জহিরুল ইসলাম শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় ট্রাইব্যুনাল তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা যত অভিযোগ
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে জহিরুল ইসলাম মাগুরার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ওই নারীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। বিভিন্ন অজুহাতে জহিরুল তাঁকে নিজ অফিসে ডেকে নেন এবং তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তিনি তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিয়ে এই নারীকে বিয়ে করার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেন।
- আ আনুষ্ঠানিকতা: ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাগুরায় সরকারি বাংলোয় ওই নারীকে নাকফুল পরিয়ে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা প্রকাশ করেন জহিরুল।
- চিকিৎসা সহায়তার নামে পরিচয়: একই বছরের ৮ মার্চ ওই নারী অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হলে জহিরুল নিজেকে তাঁর স্বামী পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
- দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন: এরপর বিভিন্ন সময়ে মাগুরার সরকারি বাংলো, অফিস রেস্টুরেন্ট এবং ঢাকার বাসায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ঢাকায় পুলিশ সদর দফতরে বদলি হওয়ার পরও বিয়ের আশ্বাস বজায় রাখেন তিনি।
বিয়ের অস্বীকৃতি ও আইনি পদক্ষেপ
মামলা থেকে আরও জানা যায়:
- অস্বীকৃতি ও হুমকি: ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জহিরুল তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং আইনি ব্যবস্থা নিলে ক্ষতির হুমকি দেন।
- আইজিপি কার্যালয় ও জিডি: ঘটনাটি নিয়ে গত বছরের ১৩ জুলাই পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন বাদী এবং ১৫ জুলাই ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
- আদালতে চূড়ান্ত হুমকি: আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে মিমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চলতি বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার জজ আদালতের সামনে আসামিকে পুনরায় বিয়ের অনুরোধ করা হলে তিনি ফের অস্বীকৃতি জানান ও হুমকি দেন।
অবশেষে কোনো উপায় না দেখে ভুক্তভোগী নারী ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন, যার প্রেক্ষিতে আজ পুলিশ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলো।