আদালত প্রতিবেদকঃ- গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে অর্থ পাচারের মামলায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।গতকাল সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্টেট মো. রিপন হোসেন এই আদেশ দেন।রিমান্ড শুনানি সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে হরিদাস বলেন, আমি একজন কৃষক ছিলাম, এখন মন্দির পরিচালনা করি। মন্দির করে যদি অপরাধী হই তাহলে কিছু করার নাই। তিনি আরও বলেন, ভক্তদের দেওয়া এ টাকা যদি অন্যায় কাজে পরিচালনা করি তাহলে সেটা দেখা হোক।গত রবিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হরিদাস চন্দ্র তরণীদাসের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগে গত রবিবার বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় এই মামলাটি করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ডিএসবি গাইবান্ধার তথ্য ও সিআইডির নির্দেশনার ভিত্তিতে হরিদাসের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট হরিদাস চন্দ্র তরণীদাস ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। সিআইডির অনুসন্ধানে অভিযুক্তের নামে পাঁচটি ব্যাংক হিসাব এবং চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব বিশ্লেষণ করা হয়। এতে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব হিসাবে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা এবং ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৮ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়।
মামলায় আরও বলা হয়, বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবসাবহির্ভূতভাবে এসব হিসাবে নগদ অর্থ জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে মো. সুজন নামে এক ব্যক্তি ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তের একাধিক ব্যাংক হিসাবে মোট ২ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা জমা দেন, যা প্রাথমিকভাবে হুন্ডির অর্থ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এভাবে অর্জিত অর্থ কয়েকটি কার্যক্রমের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং ভুয়া লেনদেনের আড়ালে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নামে-বেনামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন ।সম্প্রতি পলাশবাড়ী উপজেলায় রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির চত্বরে হিন্দু দেবতা রামের বিগ্রহ নির্মাণ কাজ শুরু করে মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, এটি হবে এশিয়ার সর্ববৃহৎ রাম রামমূর্তি।এর অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইমাম ওলামা পরিষদ আন্দোলনে নামলে গেল ৯ জুন এটির নির্মাণের কাজ স্থগিত করে মন্দির কমিটি।