বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   সারাদেশ
দালালদের খপ্পরে পড়ে রোগীদের ভোগান্তি রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘিরে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের ছড়াছড়ি
  Date : 09-07-2026

রহমত উল্যাহ পাটোয়ারী, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:  লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অনুমোদন, নবায়ন কার্যক্রম পরিচালনা, দালালের মাধ্যমে রোগী সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি হাসপাতালের সেবা নিতে আসা অসহায় রোগীদের নানা কৌশলে এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে একদিকে রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন অন্যদিকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সুনামও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এর সাথে সরকারি হাসপাতালের কয়েকজন ডাক্তার স্টাপ জড়িত রয়েছেন দাবী স্থানীয়দের।
প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালের নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপনের বিধিনিষেধ থাকলেও রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাত্র ১০ থেকে ৫০ গজের মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে অন্তত চারটি প্রতিষ্ঠান। এ গুলো হলো রামগঞ্জ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডক্টরস পয়েন্ট অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং রামগঞ্জ ইউনাইটেড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা লাইন্সেস নবায়ন নেই। তবুও দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির ঘাটতিকেই দায়ী করছেন সচেতন নাগরিকরা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১১টায় সরেজমিনে দেখা যায়, ৩১ শয্যাবিশিষ্ট রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের টার্গেট করে হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয় রয়েছে ফারুক হোসেন, নুরনবী, বিল্লাল হোসেন, মিঠন দাস, জুয়েল,সবুজ, বাশার, কাজী ছালেহ আহম্মদসহ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দালাল চক্র। তারা চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অবস্থান নিয়ে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র বা স্লিপ হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং বিভিন্ন অজুহাতে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে প্ররোচিত করে।
উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের শেখপুরা এলাকার বাসিন্দা তাহেরা বেগম (৪০) চিকিৎসক থেকে বের হওয়ার পর কাজী ছালেহ নামে এক ব্যক্তি তার ব্যবস্থাপত্র নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই ব্যক্তি নিজেকে রামগঞ্জ ইউনাইটেড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারি পরিচয় দেন এবং রোগীকে সেখানে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। এভাবে দালাল চক্রের সদস্যরা বেড়ী বাজার ফয়সল মিয়া, কেথুড়ী রিনা বেগম, ফারুল বেগমসহ রোগীদেরকে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে নেওয়া চেষ্টা করতে দেখা যায়।
এদিকে একই দিন দুপুর প্রায় ১২টা ৩০মিনিটে হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ মোঃ নাজমুল হককে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে পাশের ডক্টরস পয়েন্ট অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখতে যেতে দেখা যায়।
পরে রামগঞ্জ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডক্টরস পয়েন্ট অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, এবং রামগঞ্জ ইউনাইটেড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে
গিয়ে সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপত্র হাতে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অপেক্ষমাণ ২০ থেকে ২৫ জন রোগীকে দেখা যায়।
নাম প্রকাশে অনি”ছুক হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, এসব ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটে। হাসপাতালের ভেতরের কিছু অসাধু ব্যক্তি জড়িত থাকার কারণেই দালাল চক্র এতটা সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে তাদের দাবি।
স্থানীয় শিক্ষক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, সমাজকর্মী জহিরুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, গ্রামাঞ্চল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সহজ-সরল ও দরিদ্র রোগীরা দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্র¯’ হচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের কিছু অসাধু ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগসাজশ থাকায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ফলে অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রামগঞ্জ ইউনাইটেড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবেল চৌকিয়া বলেন, “ আমরা নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছি। নবায়নের আবেদন করে রেখেছি, ২৪ সাল থেকে নবায়ন করা হয়নি। আশাকরি শীঘ্রই নবায়ন কাগজ পত্র পাবো। আর আমাদের মার্কেটিংয়ে কাজী ছালে, সবুজসহ কয়েকজন চাকুরি করে, তারা হাসপাতালে যান না।”
রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খোন্দকার মোস্তাক আহমেদ বলেন, “হাসপাতালে একটি দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে এটি সত্য। অত্র হাসপাতালে সরকারিভাবে ১০ আনছার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা যোগদান করলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর হাসপাতালের আশপাশে পরিচালিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইন্সেস আছে কিনা তা যাচাই-বাচাই চলছে। যদি কারো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকে উর্ধ্বত্নন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে। এবং বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের ডিউটির সময় বাইরে রোগী দেখার সুযোগ নাই। কেউ তা অমান্য করার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। “
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি হাসপাতালকেন্দ্রিক দালাল চক্র, অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও কমিশনভিত্তিক রোগী বাণিজ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হলে সাধারণ মানুষ কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন এবং সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 5
  
  সর্বশেষ
দালালদের খপ্পরে পড়ে রোগীদের ভোগান্তি রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘিরে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের ছড়াছড়ি
রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন জন্মদিনের কেক উৎপাদনকারীকে জরিমানা
ঘুষ নেওয়ার সময় ধরা পড়া বেবিচকের জুনিয়র লাইসেন্স ইন্সপেক্টর রাশেদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড
হু হু করে বাড়ছে তিস্তায় পানি, প্লাবিত চর-দ্বীপচর

Md Reaz Uddin Editor & Publisher
Editorial Office
Kabbokosh Bhabon, Level-5, Suite#18, Kawran Bazar, Dhaka-1215.
E-mail:manabadhikarkhabar11@gmail.com
Tel:+88-02-41010307
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-41010308