বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   সারাদেশ
হু হু করে বাড়ছে তিস্তায় পানি, প্লাবিত চর-দ্বীপচর
  Date : 09-07-2026
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-  টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামে দ্রুত বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পানির উচ্চতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তার চর ও দ্বীপচরের নিচু এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এতে নদী-তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার সকালে কুড়িগ্রাম জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৯৬ মিটার। তিন ঘণ্টা পর সকাল ৯টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ দশমিক ২৮ মিটারে। অর্থাৎ মাত্র তিন ঘণ্টায় নদীর পানি ৩২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
 
একই সময়ে দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানির স্তর ৩ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর তালুকসিমুলবাড়ী পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার কমেছে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।
 
গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় সর্বোচ্চ ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া পাটেশ্বরী এলাকায় ৫৪ মিলিমিটার এবং কুড়িগ্রাম সদরে ৫২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
 
তিস্তা তীরবর্তী কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা চরের বাসিন্দা মোঃ বদিয়ত মিয়া বলেন, ‘পানি বাড়তে থাকায় নিচু এলাকার ফসলি জমি ও বসতভিটায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এক রাতে এত দ্রুত পানি বাড়তে আগে দেখিনি। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে আজ রাতেই আরও অনেক এলাকা প্লাবিত হতে পারে।’
 
কুড়িগ্রাম জেলার চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক মোঃ সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, ‘কুড়িগ্রাম ১৬টি নদ-নদীবেষ্টিত জেলা। একদিকে বন্যা, অন্যদিকে নদীভাঙন। এই দুই দুর্যোগে চরাঞ্চলের মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন। উন্নত দেশগুলোতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ পেলেও আমাদের দেশে অনেকেই সর্বস্ব হারিয়েও প্রয়োজনীয় সহায়তা পান না।’ তিনি নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বন্যাকবলিত মানুষের জন্য দ্রুত ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান।
 
কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ বেনজির আহমেদ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২৮৫ টন জিআর চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
 
কুড়িগ্রাম জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, ‘উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিস্তাসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করতে পারে। তাই নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’


সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 5
  
  সর্বশেষ
দালালদের খপ্পরে পড়ে রোগীদের ভোগান্তি রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘিরে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের ছড়াছড়ি
রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন জন্মদিনের কেক উৎপাদনকারীকে জরিমানা
ঘুষ নেওয়ার সময় ধরা পড়া বেবিচকের জুনিয়র লাইসেন্স ইন্সপেক্টর রাশেদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড
হু হু করে বাড়ছে তিস্তায় পানি, প্লাবিত চর-দ্বীপচর

Md Reaz Uddin Editor & Publisher
Editorial Office
Kabbokosh Bhabon, Level-5, Suite#18, Kawran Bazar, Dhaka-1215.
E-mail:manabadhikarkhabar11@gmail.com
Tel:+88-02-41010307
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-41010308