মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের (গালফ) দেশগুলো। খামেনিকে শেষ বিদায় জানানোর জন্য ইরান সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও এসব দেশ তাদের কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। এমনকি এখন পর্যন্ত খামেনির মৃত্যুতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শোকও প্রকাশ করেনি তারা।
শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানে খামেনির বিদায়ের এই আয়োজন শুরু হয়। প্রথম দিনে শুধু বিদেশি প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হয়। এরপরের দিন (শনিবার) থেকে সাধারণ মানুষের দেখার জন্য তার কফিন উন্মুক্ত স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বেশ কয়েকজন প্রেসিডেন্ট এই অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও সৌদি আরবসহ গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশগুলোর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।
উপসাগরীয় অঞ্চলের সংবাদমাধ্যম ‘হাউজ অব সৌদ’-এর বরাতে জানা গেছে, প্রায় ১৪ মাস আগে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে খামেনির মৃত্যুর পর সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং শুক্রবার পর্যন্ত তারা কোনো প্রতিনিধি দল চূড়ান্ত করেনি।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনও এই শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা পরিচালনা করে। ওই হামলার দিনই খামেনি তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিহত হন। এই রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার জের ধরেই মূলত উপসাগরীয় দেশগুলো খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান বর্জন করেছে এবং আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশ থেকে বিরত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।