শনিবার, জুলাই ৪, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   সারাদেশ
কুড়িগ্রামের বৃক্ষপ্রেমী আনোয়ার; ১২ বছরে লাগিয়েছেন ১২ হাজার গাছ
  Date : 04-07-2026
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-   গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে পুড়ছে চারপাশ। মানুষ একটু সুশীতল ছায়ার খোঁজে ব্যাকুল। ঠিক এই সময়ে কুড়িগ্রাম জেলা শহরের পথচারীদের স্বস্তি দিচ্ছে সারি সারি কৃষ্ণচূড়া, সোনালু আর জারুল গাছ। এই সবুজ শান্তির পেছনের কারিগর কোনো সরকারি সংস্থা নয়; স্কুলের দপ্তরি। তাঁর নাম মোঃ আনোয়ার হোসেন। 
 
১২ বছর ধরে কুড়িগ্রাম জেলা শহরকে পরম মমতায় সবুজে মুড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি। পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারী আনোয়ার এক যুগে নিজ হাতে রোপণ করেছেন ১২ হাজারের বেশি গাছ। 
 
সংসারে কোনো সন্তান নেই আনোয়ার-ফাতেমা দম্পতির। তাই এই গাছগুলোকেই নিজ সন্তানের মতো আগলে রেখেছেন তারা। ২০১৩ সালে নিজের এক ব্যাগ রক্ত দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া কয়েকটি চারা দিয়ে শুরু হয়েছিল এই যাত্রা। এরপর আর থামেননি। একসময় ডাস্টবিন বা ঝোপঝাড় থেকে চারা কুড়িয়ে এনে লাগাতেন। এখন নিজের বসতভিটাতেই চারা উৎপাদন করছেন। স্কুল ছুটির দিনগুলোতে নিজের টাকা খরচ করে গাছের গোড়ায় সার, পানি কিংবা বেড়া দেওয়ার কাজ আনোয়ার করেন এক হাতে। এ কাজে সহযোগিতা করছেন স্থানীয়রাও। 
 
কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার শহরের টাপুরচর এলাকার বাসিন্দা মোঃ আনোয়ার হোসেনের স্বপ্ন পুরো কুড়িগ্রাম জেলাকে সবুজে ভরিয়ে দেওয়া। তীব্র এই জলবায়ু সংকটের সময় একজন সাধারণ মানুষের এই প্রকৃতিপ্রেম কুড়িগ্রামের মানুষের কাছে এখন পরম গর্বের। 
 
বৃক্ষপ্রেমী এই দপ্তরির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাছ রোপণ করা তাঁর এক ধরনের নেশা। ২০১৩ সালে নিজের রক্ত দান করার বিনিময়ে কয়েকটি গাছ চেয়ে নিয়েছিলেন তিনি। সেই গাছ বাড়িতে রোপণের পর থেকেই প্রকৃতির প্রতি তাঁর আগ্রহ বেড়ে যায়। শুরুতে তিনি প্রতি সপ্তাহে দুটি, প্রতি মাসে ১০টি; এভাবে প্রতিবছর ১ হাজার বৃক্ষ রোপণের সংকল্প নেন।
 
সরেজমিন কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার চর হরিকেশ, বাসস্ট্যান্ড, ধরলা সেতু, বীরপ্রতীক তারামন বিবি সড়ক, পৌরবাজার, ডিসি পুকুর, জর্জকোর্ট চত্বর, ট্রাফিক অফিস, শাপলা চত্বর ঘুরে দেখা যায়, আনোয়ারের রোপণ করা গাছগুলোয় নানা প্রজাতির ফুল-ফল শোভা পাচ্ছে। শহরের পরিত্যক্ত ও অস্বাস্থ্যকর স্থানের সৌন্দর্য বর্ধনে তিনি গড়ে তুলেছেন ফুলের বাগান। 
 
আনোয়ারের এই সবুজ বিপ্লবে এখন যুক্ত হয়েছে এক দল তরুণ শিক্ষার্থী। তাদের অধিকাংশই স্থানীয় ওরাকল লাইব্রেরির পাঠক। শিক্ষার্থীদের বই পড়া ও জানার পরিধি বাড়াতে এই গ্রন্থাগার নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন আনোয়ার। বর্তমানে তিনি তাঁর প্রতিবেশীর একটি পারিবারিক কবরস্থান পরিষ্কার রাখার শর্তে সেখানে পরম যত্নে দু-তিন হাজার কৃষ্ণচূড়া, বট, পাকুড়, জাম, জারুল, কাঠবাদাম, আম, বকুল, নিম ও অর্জুনের চারা উৎপাদন করছেন। পাশাপাশি তিনি তাঁর বসতভিটায় চার-পাঁচ হাজার চারা প্রস্তুত করেছেন। চলতি বছর এক হাজার চারা রোপণ এবং বাকিগুলো শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করবেন। 
 
মোঃ আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে তাঁর স্ত্রী মোছাঃ ফাতেমা বেগম বলেন, বিয়ের ১০ বছরে তাঁর সংসারে তেমন মন না থাকলেও গাছের প্রতি আলাদা টান রয়েছে। অবসর পেলেই গাছকে সন্তানের মতো ভালোবাসেন। আমাদের সন্তান না থাকায় আমার কোনো খারাপ লাগা নেই। তাঁর গাছের প্রতি ভালোবাসাই আমার আনন্দ।
 
কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার টাপুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কল্পনা রানী সরকার বলেন, ‘আনোয়ার হোসেন দীর্ঘ ১৩-১৪ বছর ধরে আমার স্কুলে কর্মরত। তিনি কখনোই কাজে ফাঁকি দেননি। এমনকি ছুটিও নেননি। অবসরে তিনি এ ধরনের কল্যাণমূলক কাজ করেন, যা আমাদের সবার বুক গর্বে ভরিয়ে দেয়।’ 
 
কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার চর হরিকেশ এলাকায় ঘুরতে আসা পথচারী মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই তীব্র গরমে আমরা যখন একটু গাছের ছায়া খুঁজছি, তখন আনোয়ার ভাই নিজ খরচে আমাদের পুরো জেলাকে সবুজ করে গড়ে তুলছেন। কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা হিসেবে এটা আমাদের বড় গর্বের।’ 
 
মোঃ আনোয়ার হোসেন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ‘শহরের তারামন বিবি সড়কের আট কিলোমিটারে প্রায় ৫০০ চারা রোপণ করেছি; গাছে ফলও ধরেছে। কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রায় ছয় কিলোমিটারে ফল ও ফুলের গাছ লাগিয়েছি। যখন দেখি পাখি এসে ফল খাচ্ছে, লোকজন গাছের নিচে বসে জিরোচ্ছে, তখন মন ভালো হয়ে যায়। আমি পুরো জেলাকে গাছে গাছে ভরিয়ে দিতে চাই।’ 
 
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উদ্ভিদবিদ মির্জা মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আনোয়ার সবার কাছে প্রেরণার উৎস। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিম্ন পদে চাকরি করা এই যুবকের প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা সত্যিই অনুকরণীয়। তাঁকে দেখে নতুন প্রজন্ম উজ্জীবিত হলে আমাদের পরিবেশ ও প্রকৃতি সুরক্ষিত হবে।’
 
কুড়িগ্রাম জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১২ হাজারের অধিক গাছ রোপণ করা এক অসামান্য কীর্তি। সরকারিভাবে তাঁকে কোনো সহযোগিতা করা যায় কিনা, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব।


সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 3
  
  সর্বশেষ
ধানক্ষেতে কাদার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ১০১ ভরি স্বর্ণ, কৃষক ছদ্মবেশে পালানোর সময় চোরাকারবারি আটক
খামেনির শেষ বিদায়ে অংশ নেয়নি সৌদি, কুয়েত ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলো
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে বহনকারী ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ঢাকায় জরুরি অবতরণ
বিশেষ প্রণোদনা` পাচ্ছেন গোলাম আজমের ছেলে আযমী

Md Reaz Uddin Editor & Publisher
Editorial Office
Kabbokosh Bhabon, Level-5, Suite#18, Kawran Bazar, Dhaka-1215.
E-mail:manabadhikarkhabar11@gmail.com
Tel:+88-02-41010307
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-41010308