আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:- কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায় বিএসএফের পুশ-ইনের শিকার পাঁচ বাংলাদেশি টানা আটদিন ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও এখনো এ জটিলতার কোনো সমাধান হয়নি। ফলে অনিশ্চয়তা আর ঝড়-বৃষ্টি ও খাদ্য সংকটের মধ্যে দিন কাটছে তাদের।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে জামালপুর ব্যাটালিয়নের (৩৫ বিজিবি) অধীন কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্তে পৃথক দুটি ঘটনায় বিএসএফ ৯ বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে।
এর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের এক নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ঝালুরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এক নারী, তিন পুরুষ ও দুই শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয়দের বাধা এবং বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে তাদের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হয়।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ওই ছয়জনের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বেরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বিল্লাল হোসেন, তার স্ত্রী সুমি আক্তার, পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে ফাতেমা এবং পাঁচ মাস বয়সি শিশু ফাহিমাকে গত বৃহস্পতিবার রাতে রৌমারী থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে মানবিক বিবেচনায় তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এখনও শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন পাঁচ বাংলাদেশি যুবক। কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তে রয়েছেন ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার মোঃ সজিব হোসেন (২৫) ও মোঃ হিমেল মিয়া (১৮)। অপরদিকে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের ভুন্দুরচর সীমান্তে অবস্থান করছেন সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের মোঃ জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার সাওতা গ্রামের মোঃ পারভেজ আলম (২১) এবং ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার কাউছিয়া গ্রামের মোঃ নাঈম মিয়া (২২)।
জানা গেছে, গত ১০ জুন জহিরুল, পারভেজ ও নাঈম সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে সুলতান নামের এক দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের গৌহাটিতে ট্রেনে ভ্রমণকালে তারা ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন। পরবর্তীতে ভারতীয় পুলিশ তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করলে ১৮৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মাইনকারচর ক্যাম্পের সদস্যরা গত ১৪ জুন ভোরে জিনজিরা নদীর ব্রিজের নিচ দিয়ে তাদের পুশ-ইনের চেষ্টা করে। বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ১০৬৬/৭-এস সংলগ্ন এলাকায় খোলা মাঠে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ এরশাদুল হক ও মোঃ আলম মিয়া জানান, টানা আটদিন ধরে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে পাঁচ যুবক খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। স্থানীয় লোকজন মানবিক কারণে তাদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করলেও নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। রাতের বেলায় বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে সীমান্তের খোলা মাঠে তাদের মানবেতর অবস্থায় দিন কাটছে।
এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ হাসানুর রহমান বলেন, পাঁচ যুবক এখনো সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং সমাধানের চেষ্টা চলছে।