মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় নবগঠিত ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নামকরণ নিয়ে চলমান বিতর্কের অবসান ঘটাতে হস্তক্ষেপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ি এবং তাঁর দুই ছেলের নামের সাথে মিল রেখে করা তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারের স্বাক্ষর করা এই চিঠিটি জেলা প্রশাসন হাতে পায়। এর আগে শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানকে ফোন করে এই নির্দেশনা দিয়েছিলেন। জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান নিজেই সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে বিতর্কিত ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে পুনরায় গণশুনানি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক
গত ১১ জুন বগুড়া জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় নতুন ইউনিয়নটির নাম দেওয়া হয় ‘মীরবাড়ী’। অন্যদিকে নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় তিনটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় যথাক্রমে ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’।
এই চারটির মধ্যে ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’— এই তিনটি ইউনিয়নের নাম নিয়েই তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় পর্যায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নামানুসারে ‘মীরবাড়ী’ এবং তাঁর বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ও ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামানুসারে বাকি দুটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক মহলেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং নামকরণের প্রক্রিয়া ও পূর্ববর্তী গণশুনানি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তীতে বিষয়টি জাতীয় সংসদ পর্যন্ত গড়ায়। সংসদে এই বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসক যাচাই-বাছাই এবং গণশুনানির মাধ্যমেই এই নামগুলো নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁর ছেলেদের নামের সাথে মিল যাওয়াটা স্রেফ একটি `মিরাকেল` বা কাকতালীয় বিষয়।
প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর প্রেস সচিবের বক্তব্য
প্রধানমন্ত্রীর চিঠির বিষয়টি সামনে আসার পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, "নাম পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রী চিঠি দিয়েছেন বলে শুনেছি। এর ফলে ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তন হচ্ছে। তাই এখন আমাকে নিয়ে আর কোনো আলোচনা-সমালোচনার সুযোগ নেই।"
এদিকে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সচিব আতিকুর রহমান আতিক জানান, স্বার্থসিদ্ধি হাসিলের জন্য কিছু মানুষ প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহারের অপচেষ্টা করছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিজের নামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণেও আপত্তি জানিয়ে শিক্ষা সচিবকে আগেই ডিও লেটার দিয়েছেন। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই ধরনের নাম প্রস্তাব করেছিল বলে তিনি দাবি করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী নির্দেশনার পর স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তারা আশা করছেন এবার এলাকার ঐতিহ্যবাহী কোনো নামেই ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করা হবে।