মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির রিপোর্ট প্রকাশের জেরে দায়ের করা মামলায় ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে (৪০) বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামাল হোসেন শুনানি শেষে তাকে হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আজ রবিবার (২১ জুন) মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার শফিক শাহীন জানিয়েছেন, তারা যথাসময়ে জামিনের আবেদন করবেন।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির রিপোর্ট করায় বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ এবং ‘দি নিউ নেশন’ পত্রিকার উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিনিধি তানভীর আলম রিমন গত ১৫ জুন ওই পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় আরও ২/৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলাম, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার, বগুড়া প্রতিবেদক মো. শামস এবং বগুড়া জেলা প্রতিনিধি সাব্বির হাসান।
বাদী মামলার আরজিতে উল্লেখ করেছেন, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন। গত ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সাংবাদিক ছিলেন দাবি করে এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন “রাস্তাকাণ্ডে” বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম’ শিরোনামে একটি পোস্ট প্রচার করা হয়। এছাড়া ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সফর উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে উস্কানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বাদী অভিযোগ করেন।
মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় অপরাধ সংগঠনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বাদীর আবেদন ও প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে বগুড়া সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। সদর থানা পুলিশ সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রেকর্ড করে। পরবর্তীতে মামলাটি বগুড়া ডিবি পুলিশের এসআই রহমতুল্লাহ মানিককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বগুড়ার ওসি (ডিবি) ইকবাল বাহার জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি দল গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে গাজীপুর জেলার গাছা উপজেলার বোর্ডবাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি রেজানুর ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর উপজেলার বসূরা এলাকার জলিল মিয়ার ছেলে।
এদিকে পুলিশ তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে সাংবাদিক রেজানুর ইসলামকে গ্রেফতার করায় পেশাজীবী সাংবাদিকদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার শফিক শাহীন অভিযোগ করে বলেন, অতি উৎসাহী পুলিশ তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে গাজীপুরে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে অপমানজনকভাবে টেনেহিঁচড়ে চোর-খুনির মতো গ্রেফতার করেছে। এর আগে তার ওপর নজরদারি করা হয়েছে। তারা পত্রিকা অফিসেও অভিযান চালানোর চিন্তা করেছিল। সাংবাদিককে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও দেওয়া হয়নি। তিনি পুলিশের এহেন কর্মকাণ্ডে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, রবিবার শুনানির সময় যথাযথভাবে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামের জামিন প্রার্থনা করা হবে এবং আদালত তার জামিন মঞ্জুর করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।