মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সরকার শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে শিক্ষাক্রমকে আরও আধুনিক, দক্ষতানির্ভর ও যুগোপযোগী করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
বুধবার (১৭ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে প্রথমবারের মতো আয়োজিত `ডিনস অ্যাওয়ার্ড` প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাজেট বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরে বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এটি দেশের জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ ৩.৫ শতাংশ, ৪ শতাংশ এবং পরিশেষে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য সরকারের রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু বাজেট বাড়ালেই হবে না, বরং প্রতিটি টাকার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
নতুন শিক্ষাক্রম ও দক্ষ মানবসম্পদ
বর্তমান মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তে প্রকল্পভিত্তিক ও দক্ষতানির্ভর শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বাস্তব দক্ষতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষায় বিনিয়োগের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এই বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপর বর্তায়।
কারিগরি শিক্ষা ও জবির উন্নয়ন
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার (টিভেট) গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং টেকসই আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির জন্য কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। এই খাতের উন্নয়নে চলতি বাজেটে ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও নতুন ছাত্রবাস নির্মাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নতুন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।
জবির ঐতিহাসিক ভূমিকা ও কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য অবদানের প্রশংসা করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।