মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি ও গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর উত্থাপিত সাত দফা দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের নেতা প্রফেসর নূর নবী মানিক।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) ব্যাংকের ভুক্তভোগী শেয়ারহোল্ডার ও সাধারণ গ্রাহকদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের কাছে সাত দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বৈঠকের উদ্যোগ নেন।
প্রফেসর নূর নবী মানিক জানান, বৈঠকে গভর্নর অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাদের দাবিগুলো শোনেন এবং ইসলামী ব্যাংকের স্বার্থে এগুলোর সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত প্রকাশ করেন। এ সময় সচেতন গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য গভর্নরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।
তিনি আরও বলেন, "আমাদের স্পষ্ট দাবি হলো—যারা অতীতে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি বা ব্যাংক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা কোনো অবস্থাতেই ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কিংবা পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড) কোনো পদে থাকতে পারবেন না। ব্যাংকের নতুন বোর্ড গঠন করতে হবে সম্পূর্ণ নৈতিক, পেশাদার এবং দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে।"
ফোরামের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, এই সাত দফা দাবির আলোকে যদি একটি যোগ্য ও নিরপেক্ষ নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়, তবে ইসলামী ব্যাংকের প্রতি সাধারণ গ্রাহকদের হারিয়ে যাওয়া আস্থা পুনরায় শক্তিশালী হবে এবং ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা দ্রুত ফিরে আসবে। দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে তারা সারাদেশে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়ে ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন ও দেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন বলে জানান।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের প্রধান ৭টি দাবি হলো:
১. একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও যোগ্য পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড) গঠন করা।
২. ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি পুনরায় গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রকৃত ও আদি মালিকদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।
৩. ব্যাংক লুটের অভিযোগে জড়িত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
৪. ব্যাংক থেকে লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার এবং জড়িতদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা।
৫. ব্যাংক খাতে চলমান অস্থিরতা ও গ্রাহকদের আতঙ্ক দূর করতে সব ধরনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকা।
৬. ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮ ক ধারা সংশোধন করা।
৭. ব্যাংক সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।
এই বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য বা লিখিত বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।