বুধবার, জুন ৩, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   সারাদেশ
রামিসা ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক ৪ জুন
  Date : 03-06-2026

আদালত প্রতিবেদকঃ-  পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় ৪ জুন( বৃহস্পতিবার) যুক্তিতর্ক। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধায করেন। আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষে। আসামি সোহেল রানা নিজেকে প্রথমে নির্দোষ দাবি  করে,পরবর্তীতে দোষ স্বীকার করে বলেন, আমি দোষ করেছি, ডলারও করেছে, আমাকে মাফ করে দিয়েন। আমার স্ত্রী কোনো দোষ করে নাই।সকাল ১১টা ১০ মিনিটে  ট্রাইব্যুনালের বিচারক  মামলাটির বিচারকাজ শুরু করেন ।আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে সকাল ১১টায় এজলাসে হাজির করা হয়। এরআগে সকাল সোয়া ৮টায় তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাদের মহানগর দায়রা আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।বিচারক ১৬ জন সাক্ষীর রেকর্ড করা সাক্ষ্য আসামিদের পড়ে শোনান।মামলার প্রসিকিউশন পক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ও আসামির পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহসহ অন্যান্য আইনজীবীরা আদালতে হাজির ছিল।  গতকাল মঙ্গলবার এক দিনই  ১৬ জনের সাক্ষ্য নেয় ট্রাইব্যুনাল।এদিন সাক্ষ্যগ্রহণের পাশাপাশি তাদের জেরাও করা হয়। গতকাল আত্মপক্ষ সমর্থন করে আসামিদের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য বুধবার দিন রাখা হয়েছিল । ১ জুন সোমবার মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় একই আদালত।গতকাল মঙ্গলবার  রামিসার বাবা মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তার, বড় বোন, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, তার বাসার চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন, কনস্টেবল রোমা আক্তার, কনস্টেবল শরীফ মিয়া, এসআই ইকবাল হোসেন, চিকিৎসক নাসাদ জাবিন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. অহিদুজ্জামান স্বাক্ষ্য দেন।তবে রামিসার বোন রাইসা আক্তার  অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ক্যামেরা কোর্টে  সাক্ষ্য নেয়  ট্রাইব্যুনাল। গতকাল সোমবার ১ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে  আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর তারা ঘটনার বিষয়ে দোষী না নির্দোষ জানতে চাইলে তারা আদালতে নির্দোষ দাবি করেন। গত ২৪ মে দুপুরের পর সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে এবং ১৫ জনকে স্বাক্ষী তালিকায় রেখে আদালতে চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। এরপর চার্জশিটিটি ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করা হয়। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির নির্দেশ দেন। ওইদিনই মামলার নথী ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট আমলে নিয়ে চার্জ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য ১ জুন ধার্য করেন।গত ২৩ মে বিকেলে রামিসার ডিএনএ রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।মামলা সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেন। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তারা এক পর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান । ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।জবানবন্দিতে সোহেল জানান, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করেন সোহেল। এর মধ্যে শিশু রামিসার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এ সময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করেন। এরপর দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল।এ ঘটনার দিন দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। মামলার প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় স্বপ্না আক্তারকে। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 3
  
  সর্বশেষ
রামিসা ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক ৪ জুন
কক্সবাজারে পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ: ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, আহত ২
সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম রহমতুল্লাহ আর নেই
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধ ও রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে হেফাজতের মানববন্ধন

Md Reaz Uddin Editor & Publisher
Editorial Office
Kabbokosh Bhabon, Level-5, Suite#18, Kawran Bazar, Dhaka-1215.
E-mail:manabadhikarkhabar11@gmail.com
Tel:+88-02-41010307
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-41010308