মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান (রহ.) মাজার-সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরে টেনে নেওয়া শিশু ফাতেমার (৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে দিঘির পূর্ব পাড় থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গতকাল সোমবার রাত সোয়া আটটার দিকে দিঘির `মহিলা ঘাট` থেকে শিশুটিকে কুমির টেনে নিয়ে গিয়েছিল।
ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে শিশুটি গোসল করতে অথবা হাত-পা ধুতে দিঘির ঘাটে নেমেছিল। এ সময় দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটি পানির মধ্য থেকে উঠে এসে আচমকা তাকে টেনে নিয়ে যায়। শিশুটির এবং ঘাটে থাকা অন্য লোকদের চিৎকারে আশেপাশের মানুষ ছুটে আসে।
তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন নৌকা নিয়ে দিঘিতে তল্লাশি শুরু করেন। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কাজে যোগ দেন। রাতভর ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করেও তখন শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে আজ ভোরে দিঘির পূর্ব পাড়ে শিশুটির লাশ ভেসে উঠলে পরে নৌকা দিয়ে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে মরদেহটি মহিলা ঘাটের কাছে রাখা হয়েছে।
পরিচয় ও পরবর্তী ব্যবস্থা
নিহত শিশু ফাতেমা মাজার এলাকায় ভবঘুরে হিসেবে থাকা এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। পুলিশ বা মাজার-সং্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের সম্পর্কে এর চেয়ে বেশি বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।
মাজারের খাদেম ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফকির তারিকুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসক ও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে মরদেহ দাফন এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।