মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে চুরি হওয়া মালামাল এক বিএনপি নেতার ভাঙারির দোকান থেকে উদ্ধার করেছে প্রশাসন। গত রবিবার দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খানের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দোকানে থাকা আইয়ুব আলী খানের শ্যালক হালিমকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
দৌলতদিয়া ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মো. বেলাল মন্ডল জানান, ঈদের ছুটির শেষ দিনে তারা অফিস তালা লাগিয়ে চলে যান। ঘটনার দিন সকালে অফিসের ডিজিটাল ভূমি সেবা কর্মকর্তা রাজিব মহাড়ক থেকে যাওয়ার সময় দেখতে পান যে অফিসের বাইরের বিদ্যুতের তার ঝুলছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি ভেতরে গিয়ে দেখেন জানালার দরজা ভাঙা এবং দরজার তালা ভেঙে কে বা কারা প্রবেশ করেছে।
ডিজিটাল ভূমি সেবা কর্মকর্তা মো. রাজিব প্রামাণিক বলেন,
"অফিসের ভেতরে গিয়ে দেখি কম্পিউটার, কোনো রুমের ফ্যান, সার্ভিস তার এবং পানির মোটর—কিছুই নেই। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ অনেক নথিপত্র তছনছ করে রাখা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাই।"
প্রশাসনের অভিযান ও মালামাল উদ্ধার
খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং দ্রুত অভিযানে নামে। একপর্যায়ে দৌলতদিয়া ক্যানাল ঘাট এলাকায় মহাসড়কের পাশে অবস্থিত দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী খানের ভাঙারির দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, এই দোকানটি আইয়ুব আলীর ছোট ছেলে অনিক দেখাশোনা করে থাকেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান জানান,
"দুর্বৃত্তরা যেভাবে ভূমি অফিস ভাঙচুর করে মালামাল হাতিয়ে নিয়েছে, সেটাকে চুরি না বলে বরং ডাকাতি বলা চলে। অনিক খানের ভাঙারির দোকান থেকে চুরি যাওয়া ১১টি মালামালের মধ্যে ৯টি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো কম্পিউটার মনিটর ও সিসিটিভির ডিভিআর মেশিনসহ কিছু জিনিস উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।"
বাকি মালামাল দ্রুত খুঁজে ফেরত দেওয়ার জন্য অনিকের চাচা ইয়াহিয়াকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় সবার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
বিএনপি নেতার পরিবারের দাবি
অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইয়ুব আলী খানের ছোট ভাই এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ইয়াহিয়া খান সাংবাদিকদের বলেন,
"ভাঙারির দোকানে কতজনই তো কত কিছু বিক্রির জন্য নিয়ে আসে। এর মধ্যে কোনটা চুরির মাল তা তো বোঝার উপায় থাকে না। তবে আমরা ভূমি অফিসের মালামাল বিক্রিকারী চোরকে খুঁজে বের করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেবো।"
পুলিশ পুরো ঘটনাটির তদন্ত করছে এবং বাকি মালামাল উদ্ধারসহ মূল চক্রকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।