মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা : আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। এটি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি। বর্তমানে চলমান বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বড় বাজেট প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা। বিশেষ করে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ বা ‘Creative Economy’ এর ধারণাটিকে মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
গত বুধবার রাতে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে অর্থ বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নতুন বাজেটের সামগ্রিক রূপরেখা উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী এই পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছেন। বৈঠকে অর্থ বিভাগ একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দেখিয়েছে যে কীভাবে সৃজনশীল অর্থনীতির বিভিন্ন দিক মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বরাদ্দ রাখা এবং এই নতুন অর্থনৈতিক ধারণার বিকাশে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআই আয়োজিত পরামর্শক কমিটির বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বড় বাজেটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেছিলেন, বড় বাজেট না হলে বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবেন না। একইসঙ্গে উন্নয়ন বাজেটও বাড়াতে হবে, অন্যথায় মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এর কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে না।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী বাজেট সরকারের জন্য একটি দ্বৈত চ্যালেঞ্জ। একদিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে হবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর শর্ত ও প্রত্যাশা পূরণ করে উন্নয়ন সহযোগীদের সন্তুষ্ট রাখতে হবে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাদের প্রথম বাজেটেই নির্বাচনী ইশতেহারের ছাপ রাখতে আগ্রহী।