| |
| রামগঞ্জে কৃষি বীজাগার ও পাট সম্প্রসারন কেন্দ্র গুলো বেদখলে এর জন্য কৃষি কর্মকর্তাদের অবহেলাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা |
| |
|
|
|
|
|
|
|
| |
| |
|
| |
| |
| রহমত উল্যাহ পাটোয়ারী, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর ) প্রতিনিধি: রামগঞ্জে কৃষি অধিদপ্তরের আওয়াতাধিন ১৩টি কৃষি বীজাগার ও পাট সম্প্রসারণ কেন্দ্র রয়েছে। জমির পরিমান প্রায় সাড়ে ৩ বিঘা। এর মধ্যে ৮টি দখল করে নিয়েছেন সরকারি অন্য সংস্থা ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। ৫টি কেন্দ্র দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরিত্যক্ত কেন্দ্র গুলোও দখল করে নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। এ ব্যাপারে আদালতে ৪টি মামলা চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের অবহেলায় এ সব কৃষি বীজাগার ও পাট সম্প্রসারণ কেন্দ্র গুলোর জমি বেদখল হয়ে গেছে। এবং কৃষি বিভাগ থেকে বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারের জন্য কার্যকরী উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে না। নামমাত্র মামলার জবাব ও নোটিশ প্রদান করে দায় এড়াচ্ছেন তাঁরা। কৃষকদের দাবি, কৃষি বীজাগার ও পাট সম্প্রসারণ কেন্দ্র গুলো উদ্ধার ও পুনরায় সংস্কার করে ইউনিয়ন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের কার্যালয় ও কৃষি পরামর্শকেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে। এতে প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা পেয়ে কৃষকরা উপকৃত হবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। রামগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১১টি কৃষি বীজাগার ও ২টি পাট সম্প্রসারণ কেন্দ্র রয়েছে। কৃষি বিভাগ ষাটের দশকে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ৯ শতাংশ ও তার চেয়েও বেশি জমি কিনে বীজাগারের জন্য পাকা ভবন নির্মাণ করেন। এ সব বীজাগারে সরকারিভাবে সার, বীজ ও কীটনাশক সংরক্ষণ করা হতো। ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত কৃষি উপ-সহকারীর মাধ্যমে সেগুলো কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হত। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ সহায়তা দেওয়া ছাড়াও ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি বিভাগের যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালিত হত এসব বীজাগার থেকে। অল্প সময়ের মধ্যে এর সুফল পায় প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা। ভবন গুলো পুরাতন হয়ে গেলে সংস্কার না করায় এ সব বীজাগার বন্ধ করে দেয়া হয়। এর মধ্যে দরবেশপুর, নোয়াগাঁও, ইছাপুর ইউনিয়ন কৃষি বীজাগার ২০০৪ সালে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ অবৈধ দখল ইউপি কমপ্লেক্স নির্মান করেন। চন্ডিপুর ইউনিয়ন কৃষি বীজাগার পানি উন্নয়ন বোর্ড নামে রেকর্ড হয়ে তাদের দখলে রয়েছে, এ ব্যাপারে মামলা চলমান। করপাড়া ইউনিয়ন কৃষি বীজাগার শ্যামপুর হাই স্কুল কর্তৃপক্ষ দখল করে নেয়, এ ব্যাপারে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। ভাদুর ইউনিয়ন ভাদুর পাট সম্প্রসারণ কেন্দ্র, দরবেশপুর পাট সম্প্রসারণ কেন্দ্র ও ভাটরা ইউনিয়ন কৃষি বীজাগার দাতা পক্ষের দখলে রয়েছে। ভোলাকোট, ভাদুর, লামচর, কাঞ্চনপুর ও পৌরসভা কৃষি বীজাগার জরাজীর্ণ ভবন ও জমিসহ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ভাদুর, ভাটরা, ভোলাকোট কৃষি বীজাগারের জমি ফেরত পেতে দাতা পক্ষ মামলা করেন। সম্প্রতিক কৃষি বীজাগার গুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিত্যাক্ত বীজাগার গুলোর ভবনের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে যাচ্ছে, নেই দরজা-জানালা। ঝাড়-ঝোপে ভূতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে আছে। ভাটরা কৃষি বীজাগারটির ভবন কোন চিহ্ন নাই, দখলকারীরা দ্বিতলা বানিজ্যিক ভবন নির্মান করেন। এ ভাবে উপজেলা কৃষি বীজাগার ও পাট সম্প্রসারণ কেন্দ্র গুলো কোনটি দখলে আবার কোন পরিত্যক্ত অবস্থা পড়ে রয়েছে। ভাদুর কৃষি বীজাগারের জমি ফেরত পেতে মামলা করেন ভাদুর মিয়া বাড়ির মোহাম্মদ হোসেন সেলিম,তিনি বলেন, আমার বাপ দাদারা এলাকার লোকজনের সুবিধার্থে কৃষি অফিসকে এ জায়গা দিয়েছেন। কিন্তু কৃষি অফিস দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত অফিসটি ব্যবহার না করছেন। অফিসটি পরিত্যক্ত পড়ে থাকায় আমরা আমাদের জমি ফেরত পেতে আদালতে মামলা করেছি। সমেষপুর গ্রামের আবদুল মান্নান, সিরাজ মিয়া, ভাটরা গ্রামের ইউছুপ আলী,মানিক মিয়াসহ ৭ থেকে ৮ জন কৃষক বলেন, আগে প্রতিটি ইউনিয়ন কৃষি অফিস থেকে সার,বীজ বিতরণ করা হতো, একজন কৃষি অফিসার নিয়মিত থাকতো।বর্তমানে ইউনিয়ন পর্যায়ে কোন নিদিষ্ট কৃষি অফিস না থাকায়,কৃষি অফিসারদেরকে সময় মত পাওয়া যায়, এতে তাদের কৃষি কাছে কোন সমস্যা হলে পরামর্শ নিতে কষ্ট হয়। সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা পেতে অনেক কষ্ট করে উপজেলায় যেতে হয়। তাদের দাবী আগের মতো ইউনিয়নে থাকা এ সব কৃষি অফিস গুলো চালু করা। সিরুন্দি গ্রামের আনোয়ার হোসেন, সমেষপুর আবু জাফর, শাকতলা গ্রামের রেজাউল করিমসহ অনেকে কৃষি বীজাগার গুলো বন্ধ ও দখলে যাওয়ার কারন হিসেবে কৃষি অফিসারদের অবহেলাকে দায়ী করে বলেন, কৃষি অফিসাররা এসব অফিসে আসা যাওয়া করছেন না। তারা ভবন গুলো সংস্কার উদ্যোগ নেন না । তাই দিন দিন ভবন গুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরিত্যক্ত পড়ে রয়েছে। জায়গা গুলো যারা দখল করে নিচ্ছেন, তাদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। বাকী গুলো দখলে নেওয়ার জন্য অনেকে পাঁয়তারা করছেন। তারা সরকারে কাছে দখলকৃত অফিস উদ্ধার ও ভবন গুলো সংস্কার করে পুনরায় কৃষি অফিস গুলো চালু করা দাবী জানান। রামগঞ্জ কৃষি অফিসের ২ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, নির্দিষ্ট কার্যালয় না থাকায় মাঠে ঘুরে ঘুরে কাজ করতে হয়। এতে প্রয়োজনের সময় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে কৃষকদের সমস্যা হয়। বীজাগারগুলো সংস্কার করে সেখানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কার্যালয় ও কৃষি পরামর্শকেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে। এতে যেমন কৃষকেরা উপকৃত হবেন, পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন সমৃদ্ধ হবে। রামগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাব্বির আহমেদ সিফাত জানান, উপজেলায় ১৩টি কৃষি বীজাগার ও পাট সম্প্রসারণ কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে যে গুলো বেদখল হয়ে গেছে , তা উদ্ধারে জন্য ১টি মামলা চলমান রয়েছে, অন্য গুলো উদ্ধারে মামলা করা হবে। আর পরিত্যক্ত বীজগার গুলো সংস্কার করে ,কার্যক্রম চালু করার জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নিকট চিঠি দেওয়া হয়েছে। বরাদ্ধ পেলে সংস্কার এবং বীজাগার ও পাট সম্প্রসারণ কেন্দ্র গুলোতে কার্যক্রম চালু করা যাবে। রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, আমরা কৃষি বীজাগার গুলো ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি, কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় দখলকৃত বীজাগার উদ্ধার ও পরিত্যক্ত বীজাগার সংস্কার করে পুরনায় চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
|
| |
|
|
|