মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা। কক্সবাজারের টেকনাফের বহুল আলোচিত মানবপাচার চক্রের কথিত মূলহোতা ছৈয়দ প্রকাশ ‘ল্যাংগ ছৈয়দ’ খুনিয়া পালং এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের প্রায় এক মাসের মধ্যেই মুক্তি পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা একজন ব্যক্তি এত অল্প সময়ের মধ্যে মুক্তি পেলে অপরাধ দমনের কার্যকারিতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ল্যাংগ ছৈয়দের মানবপাচার চক্রের সদস্যরা শুধু টেকনাফেই নয়, উখিয়ার খুনিয়া পালং ইউনিয়নেও সক্রিয় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের প্রলোভন ও তৎপরতার কারণে খুনিয়া পালং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার প্রায় এক হাজার মানুষ অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন।
তাদের মধ্যে অনেকেই দালালচক্রের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন করে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কেউ কেউ বিদেশে পৌঁছাতে পারjলেও অনেকের বর্তমান অবস্থান, নিরাপত্তা ও ভাগ্যে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে স্বজনেরা এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলো চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এক মাসেই মুক্তি, তাহলে অপরাধ দমনের কার্যকারিতা কোথায়?
মানবপাচারের মতো সংঘবদ্ধ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কোনো অভিযানে অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রেপ্তারের পর অল্প সময়ের মধ্যে মুক্তি পেলে সেই অপরাধের নেটওয়ার্ক কতটা ভেঙে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
তবে কী কারণে তিনি মুক্তি পেয়েছেন, মামলার বর্তমান অবস্থা কী এবং আদালতের কোনো আদেশে মুক্তি পেয়েছেন কি না—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
প্রশাসনের কাছে স্থানীয়দের প্রত্যাশা
খুনিয়া পালং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মানবপাচার ও দালালচক্রের কথিত তৎপরতা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে বিদেশে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি, তাদের পরিবারের অভিযোগ গ্রহণ এবং মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
মানবপাচার শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য ভয়াবহ সংকট। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ল্যাংগ ছৈয়দের কথিত সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা জরুরি।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—মানবপাচারের শিকার ও নিখোঁজ মানুষগুলোর সন্ধান কে দেবে? আর যারা এই অসহায় মানুষদের বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা কবে নেওয়া হবে?
জনস্বার্থে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থাগুলোর জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।