মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- কক্সবাজারের উখিয়ায় ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ছৈয়দুল বশর (৩৫) নামে এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) উখিয়ার বালুখালী জোড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে স্থাপিত অস্থায়ী চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে পাঁচটি কার্টনে রাখা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে অটোরিকশায় থাকা অপর দুই ব্যক্তি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশের এ অভিযানের পর সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পরিবহন ও কারবারের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চললেও এর বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চেকপোস্টে অভিযান
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়ার বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল বালুখালী জোড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে।
এ সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দিক থেকে আসা একটি সন্দেহজনক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেন পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু অটোরিকশাটিতে থাকা চালকসহ তিনজন পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ছৈয়দুল বশরকে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে অপর দুই ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
অটোরিকশার আসনের নিচে মিলল ৫০ হাজার পিস ইয়াবা
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও অটোরিকশায় তল্লাশি চালানোর সময় চালকের আসনের নিচে রাখা একটি সাদা বস্তা থেকে পাঁচটি কার্টন উদ্ধার করা হয়। পরে কার্টনগুলো পরীক্ষা করে মোট ৫০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।
এত বিপুল পরিমাণ মাদক পরিবহনের ঘটনায় এর উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—তা খতিয়ে দেখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এ বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো জানা যায়নি।
পালিয়ে যাওয়া অপর দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগের পাঁচটি মামলার তথ্য
গ্রেপ্তার ছৈয়দুল বশর উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া এলাকার আব্দুস ছবুরের ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আরও পাঁচটি মামলা রয়েছে। নতুন এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
তবে আগের মামলাগুলোর বিচারিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কোনো মামলায় অভিযোগ থাকা এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়—এ ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
মাদকের বিস্তার রোধে অভিযান আরও জোরদার করার দাবি
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তবর্তী অঞ্চল ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এসব অঞ্চলে মাদক পরিবহন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং চোরাচালানের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া অপরিহার্য।
শুধু মাদক উদ্ধার ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের মধ্যেই অভিযান সীমাবদ্ধ না রেখে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, পরিবহনকারী এবং অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কার্যকর তদন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন উঠছে—শুধু গ্রেপ্তারই কি যথেষ্ট?
উখিয়ায় ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের এই ঘটনা মাদকবিরোধী অভিযানের গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। এখন দেখার বিষয়, উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং পালিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় কি না।
প্রশ্ন হচ্ছে—মাদকের এই বিস্তার রোধে শুধু মাদকসহ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করাই কি যথেষ্ট, নাকি এর পেছনে থাকা পুরো সরবরাহ ও চোরাচালান চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি?
মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং ধারাবাহিক নজরদারি, নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা—সবকিছুর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।