মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- কক্সবাজার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে ছিনতাইকারী, মাদক সেবনকারী ও আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মােঃ আলী " মানবাধিকার খবর " কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ৫ জন, মাদক সেবনের অভিযোগে ৬ জন এবং বিভিন্ন মামলায় আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত ৪ জন রয়েছেন। কক্সবাজার পৌরসভা ও আশপাশের ইউনিয়ন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তার ৫ ছিনতাইকারী
পুলিশের অভিযানে ছিনতাইকারী হিসেবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—
১. ইসমাইল (২৬), পিতা-মৃত বদিউল আলম, মাতা-জয়নাব বেগম। সাং-পূর্ব বড় ভেওলাসী, সিকান্দার পাড়া, থানা-চকরিয়া, জেলা-কক্সবাজার।
২. টিপু দাস (২৪), পিতা-দুলাল, মাতা-সিতা দাস। সাং-উত্তর পাড়া, ৯ নম্বর ওয়ার্ড, ঢেমশা ইউনিয়ন, কেরানিরহাট, থানা-সাতকানিয়া, জেলা-চট্টগ্রাম।
৩. শাহাদাত হোসেন ফাহিম (২২), পিতা-সেলিম, মাতা-খালেদা বেগম। সাং-পাহাড়তলী ইসলামপুর, ৭ নম্বর ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
৪. হাসান প্রকাশ জিল্লু (২১), পিতা-জিয়াউল হক প্রকাশ ওহিদুর রহমান, মাতা-সুফিয়া প্রকাশ ফাতেমা। সাং-মধ্য কলাতলী, ইসলামাবাদ, ১২ নম্বর ওয়ার্ড, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
৫. জামাল উদ্দিন জিয়া (৪০), পিতা-জাহাঙ্গীর, পালক পিতা-মনির হোসেন, মাতা-ফাতেমা বেগম। সাং-দক্ষিণ বাহারছড়া, ১১ নম্বর ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগের মামলা ও জিডির তথ্য
পুলিশের সরবরাহ করা তথ্যে ইসমাইলের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় ২০২৩ সালের ২৭ আগস্টের একটি জিডির উল্লেখ রয়েছে।
টিপু দাসের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় ২০২৬ সালের ৬ জুন বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি/২৫ডি ধারায় একটি মামলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের বিমানবন্দর থানায় ২০২৫ সালের ২৯ মে এবং কক্সবাজার সদর থানায় ২০২৬ সালের ২ অক্টোবরের দুটি জিডির তথ্য রয়েছে।
অন্যদিকে, জামাল উদ্দিন জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর কক্সবাজার সদর থানায় অস্ত্র আইন এবং দণ্ডবিধির ৩৯৯/৪০২ ধারায় পৃথক দুটি মামলার তথ্য উল্লেখ করেছে পুলিশ।
মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬ জন
অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—
১. সাহা কালাম (২২), পিতা-আবুল কালাম, মাতা-মরিয়ম আক্তার। সাং-ফকির পাড়া, ৪ নম্বর ওয়ার্ড, খুরুশকুল ইউনিয়ন।
২. মো. নুরু ইসলাম (৬০), পিতা-মৃত লাল মিয়া, মাতা-মৃত সহর বানু। সাং-লাইট হাউজ পাড়া, ১২ নম্বর ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা।
৩. মো. জাহেদ হাসান (২৪), পিতা-মো. আলী আকবর। সাং-লাইট হাউজ পাড়া, ১২ নম্বর ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা।
৪. মো. রফিক (২৯), পিতা-মৃত মোহাম্মদ সুলতান, মাতা-রহিমা খাতুন। সাং-মালুম্মা, ৩ নম্বর ওয়ার্ড, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন, থানা-লামা, জেলা-বান্দরবান।
৫. আবুল কাসেম (২৪), পিতা-করম আলী, মাতা-নুরন্নাহার। সাং-খরুলিয়া চেয়ারম্যান পাড়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ড, ঝিলংজা ইউনিয়ন, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
৬. শারমিন (৩০), রোহিঙ্গা, ভাসমান। পিতা-মৃত মো. কামাল, মাতা-মৃত মো. ইসমাইল। সাং-পাঞ্জেখানা, শিকলঘাটা, থানা-রামু, জেলা-কক্সবাজার।
ওয়ারেন্টভুক্ত ৪ আসামি গ্রেপ্তার
একই অভিযানে আদালতের ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—
১. মো. ছৈয়দ নুর, পিতা-মৃত নুর মোহাম্মদ। সাং-বৈদ্যঘোনা খাজা মঞ্জিল, রাজ্জাকের ভাড়াবাসা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
২. তোফাইদুল ইসলাম বাবু (২১), পিতা-জাফর আলম। সাং-ফকির পাড়া, মাহফুজ চেয়ারম্যানের বাড়ির উত্তর পাশে, ৪ নম্বর ওয়ার্ড, খুরুশকুল ইউনিয়ন, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
৩. আবু বক্কর (২২), পিতা-শামশুদ্দৌহা। সাং-পাহাড়তলী, মাঠের পশ্চিম পাশে, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
৪. মো. সেলিম (২২), পিতা-আবুল বশর। সাং-পশ্চিম পাহাড়তলী, মাঠের পূর্ব পাশে, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত
কক্সবাজার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে চুরি-ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ছিনতাই, মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধ এবং আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে সর্বমোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।