মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:- কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাজারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৮ হাজার ৭৫০ পিস ইয়াবাসহ জামাল উদ্দিন (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১৫ (ব্যাটালিয়ন সদর)। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান, দুটি মোবাইল ফোন ও দুটি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিটে কক্সবাজারের ঈদগাঁও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে আলমাছিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন ‘শাকিল ট্রেডিং’ দোকানের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে পিকআপ ভ্যানের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এসআরবি-১৫ ব্যাটালিয়ন সদরের একটি চৌকস অভিযানিক দল গোপন সূত্রে খবর পায়, একটি পিকআপ ভ্যানের মাধ্যমে ইয়াবার বড় চালান পাচার করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেয় ব্যাটালিয়ন সদর কোম্পানির সদস্যরা।
এরই ধারাবাহিকতায় অভিযানিক দলটি ঈদগাঁও বাজারের আলমাছিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন শাকিল ট্রেডিং দোকানের সামনে অবস্থান নেয় এবং সেখানে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে। পরে সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চালানো হলে পিকআপ ভ্যানের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ইয়াবার চালানটি শনাক্ত করা হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে পিকআপ ভ্যান থেকে মোট ১৮ হাজার ৭৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পিকআপ ভ্যানের চালক জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যান, দুটি মোবাইল ফোন ও দুটি সিম কার্ড জব্দ করেন অভিযানিক দলের সদস্যরা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি চট্টগ্রামের আনোয়ারার বাসিন্দা
গ্রেপ্তার জামাল উদ্দিন (৩৮) চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানার বটতলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের জসিম উদ্দিন ও রোজিনা আকতার দম্পতির ছেলে বলে জানা গেছে।
আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় হস্তান্তর
অভিযান শেষে উদ্ধার করা ইয়াবা, জব্দ করা পিকআপ ভ্যান, মোবাইল ফোন ও সিম কার্ডসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঈদগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাদকদ্রব্যের পাচার ও বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে অপরাধ দমনে এ ধরনের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে অভিযান অব্যাহত রাখার প্রত্যয়
মাদকের বিস্তার ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মাদক পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশিj. জনসচেতনতা ও সামাজিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
ঈদগাঁওয়ে এসআরবি-১৫-এর এ অভিযান মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাদক পাচার প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।