মােঃজানে আলম সাকী, ঢাকা:- কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের ২৪ ঘণ্টার অভিযানের ফলাফল অনুযায়ী, বিভিন্ন মামলা, পরোয়ানা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ায় মোট ৩৫৪ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছে। একই সময়ে মাদকবিরোধী অভিযান, কিশোর গ্যাংবিরোধী কার্যক্রম এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট, চোলাইমদ, গাঁজা, বিদেশি মদ ও স্কাফ সিরাপসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ জনকে কারাদণ্ড এবং কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় মোট গ্রেপ্তার ৩৫৪ জন
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধে মোট ৩৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৬৪ জন, পূর্ববর্তী মামলায় ৪৪ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ১৬ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ২৩ জন এবং কার্যবিধির ১৫১ ধারা ও অন্যান্য আইনে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া বিভিন্ন পরোয়ানামূলে ৯২ জন এবং সাজা পরোয়ানামূলে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩০ জনকে। তাঁদের মধ্যে একজন মাদক বহনকারী এবং ২৯ জন মাদক সেবনকারী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আরও ২৪ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে অভিযানে মোট ৫৪ জন গ্রেপ্তারের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে কারাদণ্ড ২০ জনের
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ মাদক কারবার প্রতিরোধে পরিচালিত অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অপরাধে অর্থদণ্ড হিসেবে আদায় করা হয়েছে ১ হাজার ৪৫০ টাকা।
একই সময়ে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত ১৭টি মামলা রুজু করা হয়েছে। মাদক নির্মূল ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য
অভিযান চলাকালে বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদকের বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো—
- ইয়াবা ট্যাবলেট: ৬ হাজার ৬৯ পিস।
- চোলাইমদ: ৫১০ লিটার।
- গাঁজা: ১০ কেজি ১৯০ গ্রাম।
- বিদেশি মদ: ১০ বোতল।
- স্কাফ সিরাপ: ২৮ বোতল।
উদ্ধার হওয়া এসব মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার
অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের সদস্য হিসেবে ৭ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছে। জেলাভিত্তিক গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ৪ জন, কুমিল্লায় ১ জন এবং নোয়াখালীতে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬৯ জন
কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মোট ৬৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪৬ জনকে মুচলেকার মাধ্যমে অভিভাবক বা জিম্মাদারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৩ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জেলাভিত্তিক আটক কিশোর গ্যাং সদস্যদের সংখ্যা হলো—
- চট্টগ্রাম: ২৩ জন।
- কক্সবাজার: ১২ জন।
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ৬ জন।
- নোয়াখালী: ৮ জন।
- লক্ষ্মীপুর: ৬ জন।
- রাঙামাটি: ২ জন।
- খাগড়াছড়ি: ১২ জন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে চট্টগ্রামে সর্বাধিক ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার ও খাগড়াছড়িতে ১২ জন করে আটক করা হয়েছে।
অপরাধ প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা
কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক তৎপরতা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং মাদকের বিস্তার প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখা, মাদকদ্রব্যের অবৈধ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণের সচেতনতাও প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে পরিচালিত এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমন, মাদকমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনানুগ কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: সরবরাহকৃত ২৪ ঘণ্টার অভিযানসংক্রান্ত প্রতিবেদন।