শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   সারাদেশ
কক্সবাজারে ইয়াবার বিস্তার রোধে আইজিপির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা: বৃহত্তর পাহাড়তলীতে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
  Date : 23-10-2026

মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:-   মরণনেশা ইয়াবার বিস্তার, যুবসমাজের অবক্ষয় এবং মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে কক্সবাজার জেলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বৃহত্তর পাহাড়তলী এলাকার বিভিন্ন স্থানে ইয়াবার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মহোদয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই বিপর্যস্ত করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ইয়াবার মতো মরণনেশার বিস্তার তরুণ প্রজন্মকে বিপথে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই কক্সবাজারের যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে।

বৃহত্তর পাহাড়তলীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ

অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বৃহত্তর পাহাড়তলীর পূর্ব পাহাড়তলী, ইচ্ছুলোর ঘোনা, পশ্চিম পাহাড়তলীর খালপার ও খুনীর মাঠ নামে পরিচিত এলাকা, রহমানিয়া মাদ্রাসা এলাকা, জিয়ানগর, মৌলভীপাড়া, নতুন বাজার থেকে হালিমাপাড়া, সাত্তারের ঘোনা, সৈয়দ নগর, সুলতানপুর, ওমর সুলাইমান ঘোনা, আবু উকিলের ঘোনা, শাহানুর নগর, আদর্শ নগর, মালেক মুন্সির ঘোনা, হেলালীর ঘোনা, নজির হোসেন ঘোনা, অলি আহাম্মদের ঘোনা, সিরাজের ঘোনা, মোহাম্মদপুর ও ইসলামপুর পাহাড়তলীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্রের কারণে এলাকার তরুণ ও যুবসমাজ মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান এবং মাদক কারবারে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

অপরাধের তথ্য প্রকাশ করলে হুমকির অভিযোগ

স্থানীয় অভিযোগকারীদের দাবি, মাদক, জুয়া ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করে সংবাদ প্রচার করা হলে সংবাদদাতা বা তথ্য প্রকাশকারীদের বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হতে পারে। এমনকি প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করার পরও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি বলে তাঁদের অভিযোগ। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহত্তর পাহাড়তলী এলাকার কয়েকটি স্থানে প্রভাবশালী ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কথা বললে প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কেউ অপরাধের শিকার হলে দ্রুত আইনি সহায়তা প্রদান করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা প্রয়োজন।

আইজিপির প্রতি আকুল আবেদন

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মহোদয়ের প্রতি আবেদন জানিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কক্সবাজার জেলাকে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের বিস্তার থেকে রক্ষা করতে আপনার কার্যকর উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

“আইজিপি স্যার, আপনি চাইলে কক্সবাজার জেলাকে মরণনেশা ইয়াবার ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন—আপনার প্রতি আমাদের গভীর আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।”

তাঁদের প্রত্যাশা, কক্সবাজারের মাদকপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মাদক সরবরাহকারী, বিক্রেতা ও সংশ্লিষ্ট অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক প্রভাব যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

স্থানীয় অভিযোগকারীরা কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁদের দাবি, বৃহত্তর পাহাড়তলী এলাকার মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস ও কথিত প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

একই সঙ্গে এলাকায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং অপরাধের তথ্য প্রদানকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুবসমাজকে বাঁচাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ জরুরি

কক্সবাজার শুধু পর্যটননগরী নয়, এটি অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও জীবিকার ঠিকানা। এই জেলার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের অন্ধকার থেকে রক্ষা করা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।

মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও কার্যকর করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত কক্সবাজার গড়ে তোলা সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি—বৃহত্তর পাহাড়তলীসহ কক্সবাজারের যেসব এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে, সেসব এলাকায় দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে কেউ যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন—এটাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 34
  
     সারাদেশ
মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত বিচার কবে? ছয় বছর পেরিয়েও বিচারপ্রক্রিয়ার শেষ ধাপের অপেক্ষা
কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৩৫৪ জন গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামে চোরাই মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তন চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার, ৮টি মোবাইলসহ কম্পিউটার ও সরঞ্জাম উদ্ধার
একসময় টিভি নাটকের জনপ্রিয় মুখ সমু চৌধুরীকে ঘিরে নতুন আলোচনা, স্মৃতিতে আজও অমলিন মায়ের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা
কক্সবাজারে ইয়াবার বিস্তার রোধে আইজিপির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা: বৃহত্তর পাহাড়তলীতে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
সুবর্ণা মুস্তাফা ও বদরুল আনাম সৌদ: বয়সের ব্যবধান পেরিয়ে দাম্পত্য জীবনের এক গল্প
  সর্বশেষ
মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত বিচার কবে? ছয় বছর পেরিয়েও বিচারপ্রক্রিয়ার শেষ ধাপের অপেক্ষা
কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৩৫৪ জন গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামে চোরাই মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তন চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার, ৮টি মোবাইলসহ কম্পিউটার ও সরঞ্জাম উদ্ধার
একসময় টিভি নাটকের জনপ্রিয় মুখ সমু চৌধুরীকে ঘিরে নতুন আলোচনা, স্মৃতিতে আজও অমলিন মায়ের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা

Md Reaz Uddin Editor & Publisher
Editorial Office
Kabbokosh Bhabon, Level-5, Suite#18, Kawran Bazar, Dhaka-1215.
E-mail:manabadhikarkhabar11@gmail.com
Tel:+88-02-41010307
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-41010308