মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:- চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চোরাই ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার হেফাজত থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আটটি মোবাইল ফোন, আইএমইআই পরিবর্তনের কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার, বিশেষায়িত অ্যাডাপ্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো চোরাই ও ছিনতাইকৃত হতে পারে এবং সেগুলোর আইএমইআই পরিবর্তনের জন্য অভিযুক্তের হেফাজতে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাহেদুল কবিরের তত্ত্বাবধানে এসআই নাঈমুর রহমান সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, কোতোয়ালী থানাধীন চৈতন্য গলি কাঁচাবাজার এলাকার বিসমিল্লাহ বিল্ডিংয়ের ষষ্ঠ তলার ৬ নম্বর কক্ষে একটি চক্র বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে চোরাই ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে আসছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ২১ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত ১০টা ২০ মিনিটে ওই কক্ষে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে আইএমইআই পরিবর্তনকারী চক্রের সদস্য হিসেবে মোঃ আব্দুল মান্নান প্রকাশ আসিফ (২৪) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসিফ কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানার চিলবা বাজার এলাকার শরাফত আলী চেয়ারম্যানের বাড়ির বদিউল আলম ও হোসনে আরা বেগমের ছেলে। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানাধীন পুরাতন চান্দগাঁওয়ের পাঠানিয়া গোদা এলাকায় বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আটটি মোবাইল ফোন
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তের হেফাজতে থাকা বিভিন্ন চোরাই ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনের আইএমইআই পরিবর্তনের জন্য সেগুলো রাখা হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়। পরে তার হেফাজত থেকে আটটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. ডার্ক ব্লু রঙের Realme 7i ব্র্যান্ডের একটি মোবাইল ফোন, যার আইএমইআই নম্বর কাটা অবস্থায় ছিল।
২. কালো রঙের Infinix Smart 7 ব্র্যান্ডের একটি মোবাইল ফোন।
৩. Vivo V27 5G ব্র্যান্ডের একটি মোবাইল ফোন, যার পেছনের অংশ খোলা এবং ফোনটি বন্ধ ছিল।
৪. নীল রঙের Itel Super 26 Ultra Blu ব্র্যান্ডের একটি মোবাইল ফোন, যার পেছনের অংশ খোলা এবং ফোনটি বন্ধ ছিল।
৫. পেছনের অংশবিহীন সিলভার রঙের একটি Itel ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন, যা বন্ধ অবস্থায় ছিল।
৬. কালো রঙের Huawei Nova 12s ব্র্যান্ডের একটি স্মার্টফোন, যার পেছনের অংশ খোলা এবং ফোনটি বন্ধ ছিল।
৭. Xiaomi Redmi Note 7 ব্র্যান্ডের একটি স্মার্টফোন, যার পেছনের অংশ খোলা এবং ফোনটি বন্ধ ছিল।
৮. কালো রঙের Infinix Hot 60 Pro ব্র্যান্ডের একটি মোবাইল ফোন, যার পেছনের অংশ খোলা এবং ফোনটি বন্ধ ছিল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তালিকার ৩ থেকে ৮ নম্বর পর্যন্ত উদ্ধার করা ছয়টি মোবাইল ফোন অচল অবস্থায় ছিল এবং সেগুলোর আইএমইআই নম্বর দৃশ্যমান ছিল না।
আইএমইআই পরিবর্তনে ব্যবহৃত সরঞ্জামও উদ্ধার
মোবাইল ফোনের পাশাপাশি আইএমইআই পরিবর্তন ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি কাজে ব্যবহার করা হতে পারে—এমন বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা সরঞ্জামগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- একটি F64 eMMC and UFC Adapter
- FLATRON E1942 লেখা একটি কালো LG ডেস্কটপ কম্পিউটার মনিটর
- সামনে ‘hi5’ এবং নিচের অংশে ‘HDD/SSD’ লেখা একটি কালো রঙের পিসি
- একটি কালো রঙের Digital Star মডেলের মাল্টিপ্লাগ
- একটি নীল রঙের ল্যাম্প লাইট
- একটি কিবোর্ড
- একটি মাউস
- একটি রাউটার
- পিসি ও মনিটর সংযোগের বিভিন্ন ক্যাবল
পুলিশের ধারণা, উদ্ধার করা এসব সরঞ্জাম মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনসহ সংশ্লিষ্ট কারিগরি কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। তবে উদ্ধার করা প্রতিটি ফোনের মালিকানা, সেগুলো চোরাই বা ছিনতাইকৃত কি না এবং আইএমইআই পরিবর্তনের সঙ্গে সেগুলোর সম্পৃক্ততা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মোঃ আব্দুল মান্নান প্রকাশ আসিফ এবং অন্যান্য পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানার মামলা নম্বর ৫৭, তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে মামলা রুজু করা হয়েছে।
মামলায় দণ্ডবিধির ৪১১ ধারা এবং সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২১(২), ২২(২) ও ২৭ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের এ অভিযান চোরাই ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনের অবৈধ বেচাকেনা এবং পরিচয় পরিবর্তনের মাধ্যমে সেগুলো বাজারজাত করার অভিযোগ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলোর প্রকৃত মালিক কারা এবং এসব ফোন কীভাবে অভিযুক্তের হেফাজতে এসেছে—তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে।
চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার, প্রকৃত মালিক শনাক্ত এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে তদন্তের গুরুত্ব রয়েছে।