মােঃ জানে আলম সাকী,কক্সবাজার প্রতিনিধি:- চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের স্পেশাল টিম-০১-এর বিশেষ অভিযানে ৩ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ এবং ট্রাকের চালক ও কথিত মাদক কারবারি মো. রুহুল আমিন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাকের পাটাতনের নিচে বিশেষ কৌশলে তৈরি করা একটি গোপন চেম্বারে ইয়াবাগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চেকপোস্ট স্থাপন
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ডিবি (দক্ষিণ) বিভাগের স্পেশাল টিম-০১-এর কর্মকর্তারা গোপন সূত্রে জানতে পারেন, কক্সবাজার থেকে একটি ট্রাকে করে মাদকদ্রব্য নিয়ে কোতোয়ালী হয়ে সাগরিকার দিকে যাওয়া হচ্ছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির স্পেশাল টিম-০১-এর কর্মকর্তারা ও সদস্যরা ডবলমুরিং থানাধীন মনসুরাবাদ এলাকায় অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেন। পরে মনসুরাবাদ পুলিশ লাইনের বিপরীত পাশে ৪৩৮ ডিটি রোডে অবস্থিত দরবার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সামনে একটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।
রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে সন্দেহভাজন ট্রাকটি চেকপোস্টের কাছে পৌঁছালে পুলিশের আভিযানিক দল সেটি আটক করে। এ সময় ট্রাকের চালক মো. রুহুল আমিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ট্রাকের পাটাতনের নিচে গোপন চেম্বার
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ট্রাকের পাটাতনের নিচে বিশেষ কৌশলে নির্মিত একটি গোপন চেম্বারে ইয়াবা রাখা হয়েছে বলে জানান চালক। পরে তাঁর দেখানো স্থান থেকে এবং তাঁর হাতে বের করে দেওয়া অবস্থায় মোট ৩ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর যশোর-ট-১১-২৫৬৩। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পাশাপাশি ট্রাকটিও জব্দ করেছে অভিযান পরিচালনাকারী দল।
পুলিশের ধারণা, মাদক পরিবহনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে ট্রাকের পাটাতনের নিচে গোপন চেম্বার তৈরি করে ইয়াবাগুলো বহন করা হচ্ছিল। তবে মাদকের উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয়
গ্রেপ্তার মো. রুহুল আমিনের বয়স ৪৫ বছর। তাঁর পিতার নাম মৃত সোহরাব আলী এবং মাতার নাম আছিয়া বেগম। তাঁর বাড়ি পাবনা জেলার আতাইকুলা থানাধীন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ধর্মগ্রাম (খন্দকার বাড়ি) এলাকায়।
ডবলমুরিং থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রামে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের এ ঘটনা মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত অভিনব কৌশল এবং আন্তজেলা মাদক সরবরাহের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তদন্তের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্তের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হবে।