মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- কক্সবাজার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে ছিনতাইকারী, মাদক সেবনকারী, ধর্তব্য অপরাধে অভিযুক্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মােঃ আলী “মানবাধিকার খবর “ কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ২ জন ছিনতাইকারী, ৫ জন মাদক সেবনকারী, ধর্তব্য অপরাধে ১ জন এবং আদালতের ওয়ারেন্টমূলে ১ জন আসামি। কক্সবাজার পৌরসভা ও আশপাশের ইউনিয়ন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়
ছিনতাইকারী হিসেবে গ্রেপ্তার ২ জন
কক্সবাজার সদর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারকাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছিনতাইকারী হিসেবে গ্রেপ্তার দুজন হলেন—
১. মো. জোবায়ের প্রকাশ লালু (২৪)। তিনি কক্সবাজার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বৈদ্যঘোনা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতা মো. জাফর এবং মাতা আমেনা বেগম। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি দায়ের করা একটি মামলা রয়েছে। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩৩২/৩৩৩/৩০৭ ধারাসহ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর সংশোধিত বিধানের উল্লেখ রয়েছে।
২. মো. হেলাল হোসেন প্রকাশ হেলাল (২১)। তাঁর পিতা মো. বাদশা মিয়া এবং মাতা নুর নাহার। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়া এলাকায়। বর্তমানে তিনি একই ওয়ার্ডের কুতুবদিয়াপাড়া, কুড়ারটেকের ৪ নম্বর গলিতে বসবাস করেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কক্সবাজার সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার উল্লেখ রয়েছে।
মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫ জন
অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন—
১. মঞ্জুর আলম (২১) — পিতা মো. আবছার, মাতা হাজেরা বেগম। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
২. মো. অপু (২৯) — পিতা ভুট্টু মিয়া, মাতা মৃত হোসনেয়ারা। তাঁর ঠিকানা চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লালদীঘির পাড় এলাকা।
৩. মো. তারেক (২১) — পিতা আমান উল্লাহ, মাতা জোন্না আক্তার। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবজোন এলাকায়। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের লাইটহাউজ পাড়ায় বসবাস করেন।
৪. মোহাম্মদ ছোপায়েত (২০) — পিতা লাল মিয়া, মাতা তছমিন আক্তার। তিনি কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়তলী হালিমাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
৫. মো. মাছুম (১৯) — পিতা মো. জহির আহাম্মদ। তাঁর ঠিকানা কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীরপাড়া এলাকা।
ধর্তব্য অপরাধে গ্রেপ্তার ১ জন
ধর্তব্য অপরাধে গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন সামিনুজ্জামান। তাঁর পিতা মো. কামরুজ্জামান এবং মাতা ছানোয়ারা বেগম। তাঁর বাড়ি দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানার শাশপুর, ভিয়াইন এলাকায়।
ওয়ারেন্টমূলে গ্রেপ্তার ১ জন
আদালতের ওয়ারেন্টমূলে গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন মো. কোরবান আলী নুরী (২২)। তাঁর পিতা মো. আবু তাহের নূরী। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কুলিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত
কক্সবাজারের পর্যটননগরী ও আশপাশের এলাকায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ছিনতাই, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা জোরদারের চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশের দেওয়া তথ্যে গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
মানবাধিকার খবর
জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।