আদালত প্রতিবেদকঃ- কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ধর্ষণের ফলে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা মামলায় সৎ বাবাকে মৃত্যুদণ্ড পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ট্রাইব্যুনাল।গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় দেন ।দণ্ডিত ব্যক্তি জামাল হোসেনকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো নিদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ের পর্যবেক্ষণের ট্রাইব্যুনালের বিচারক বলেছেন, জামাল হোসেন ১৩ বছরের কিশোরিকে পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে।সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আদালত তার কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হবে যদি এই অপরাধের জন্য যথোপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা না হয়; যা কেবল দুর্ভাগ্যজনক ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই নয়, ভুক্তভোগী যে সমাজের অন্তর্ভুক্ত, সেই সমাজের বিরুদ্ধেও সংঘটিত হয়েছে। এটি আদালতের দায়িত্ব সমাজের আর্তনাদে সাড়া দেওয়া ৫৬ বছর বয়সি জামাল হোসেন ‘ঘৃণ্য অপরাধ’ করেছে।একটি ঘৃণ্য অপরাধের জন্য যথাযথ শাস্তি নির্ধারণ বিচারক হিসেবে দায়িত্ব সেই হিসেবে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হলো। জরিমানা টাকা পরিশোধ না করলে তা আদায়ে দণ্ডিতের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ওই অর্থ ভুক্তভোগীকে বা তার আইনগত উত্তরাধিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধ করতে জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার অভিযোগ থেকে জানাযায় , ওই কিশোরী তার মা ও সৎ বাবার সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় থেকে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছিল। মা না থাকার সুযোগে জামাল হোসেন ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। কয়েক দফা ধর্ষণের শিকার হয় ওই কিশোরী। পরবর্তীতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং সন্তান জন্ম দেয়।এ ঘটনায় কিশোরীর মা ২৮ অগাস্ট কামরাঙ্গীরচর থানায় এ মামলাটি করে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ আলী হোসেন ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জামালের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত বছরের ২৪ অগাস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।