মােঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:- রাজধানীর দ্রুততম ও স্বাচ্ছন্দ্যের গণপরিবহন মেট্রোরেল প্রতিদিন প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে। অফিসগামী যাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও, এর স্টেশন ও ট্রেনগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্যের অভাব, আধুনিক প্রযুক্তির ঘাটতি এবং এমআরটি পুলিশের পূর্ণাঙ্গ স্বতন্ত্র ইউনিট চালু না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এই কেপিআই (KPI) ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
পর্যাপ্ত জনবলের অভাব ও নিরাপত্তার ঝুঁকি
মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে `মাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) পুলিশ` গঠিত হলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে তা এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।
এমআরটি পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ মহসিন জানান, ১৬টি স্টেশনে তিন শিফটে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের জন্য মোট ৪৮০ জন পুলিশ সদস্যের প্রয়োজন। প্রতিটি স্টেশনের ৪টি প্রবেশ ও বহির্গমন পথে ন্যূনতম নিরাপত্তার জন্য অন্তত ১০ জন সদস্যের প্রয়োজন থাকলেও বাস্তবে তা নেই।
বর্তমানে উত্তরা উত্তর, মিরপুর-১০, সচিবালয়, মতিঝিল, শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, শেওড়াপাড়া ও পল্লবী স্টেশনে ৯-১০ জন করে সদস্য দেওয়া হলেও অন্যান্য স্টেশনে সংখ্যাটি আরও কম। ফলে প্রবেশপথ, টিকিট কাউন্টার ও প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের সঠিক তদারকি ও তল্লাশি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রযুক্তির ঘাটতি ও বিকল যন্ত্রপাতি
বর্তমানে মেটাল ডিটেক্টর বা সাধারণ আর্চওয়ে দিয়ে মাদক বা স্ক্যানিং সংক্রান্ত সূক্ষ্ম তল্লাশি সম্ভব নয়। তার ওপর সচিবালয় ও উত্তরা উত্তর স্টেশনের ৮টি আর্চওয়ের মধ্যে ৪টিই বর্তমানে নষ্ট হয়ে আছে। ফলে মাদক কারবারি ও অপরাধীরা এই দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
প্রশাসনিক ও কাঠামোগত জটিলতা
এমআরটি পুলিশের নিজস্ব স্বতন্ত্র ইউনিট ও বাজেট কাঠামো না থাকায় বেতন ও প্রশাসনিক পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এতে মাঠপর্যায়ে কাজের গতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তীব্র গরমে ছোট কক্ষে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের বেগ পেতে হচ্ছে।
যাত্রীদের ভোগান্তি ও শঙ্কা
মেট্রোরেলের নিয়মিত একজন যাত্রী জানান, "স্টেশনে টিকিট কাটার দীর্ঘ সারি বা ভিড়ের মধ্যে অনেক সময় বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়। এ সময় নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য থাকা জরুরি। এছাড়া এন্ট্রি গেটে পুলিশ থাকলেও বগিগুলোতে কোনো নিরাপত্তা প্রহরী দেখা যায় না।"
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মেজর মোহাম্মদ জাকির সিদ্দিকী (অব.) জানান, মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র নিখুঁতভাবে শনাক্তের জন্য আধুনিক ‘লগেজ স্ক্যানার’ বসানোর বিষয়টি একদম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সোমবারের বোর্ড মিটিংয়ে এটি অনুমোদিত হলে খুব দ্রুতই পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েকটি স্টেশনে এই স্ক্যানার চালু করা হবে।
সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মেট্রোরেলের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে জনবল বৃদ্ধি, অত্যাধুনিক সরঞ্জাম স্থাপন এবং এমআরটি পুলিশকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বতন্ত্র ইউনিটে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি।