মোঃ জানে আলম সাকী,ঢাকা:- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন অসংগতি দূর করার দাবিতে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন সাধারণ পরীক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিভিন্ন কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর ফলে চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সমবেত হন। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দেশজুড়ে চরম জলাবদ্ধতা, ভারী বৃষ্টিপাত ও কর্দমাক্ত রাস্তাঘাটের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পরীক্ষা গ্রহণ, প্রশ্নপত্রে ভুল থাকা, দূরবর্তী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্ধারণ এবং শিক্ষকদের একাংশের প্রতিহিংসামূলক ও দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে দুই শতাধিক যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া, ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ এবং উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে শামীম হৃদয়, নাহিদ, আহসান জুবায়ের, শাহিন ও শিহাব বলেন, "এমন প্রতিকূল ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আমরা শিক্ষকদের দুর্ব্যবহারের প্রতিকার, দূরবর্তী কেন্দ্র পরিবর্তনসহ ছয় দফা দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি।" এ সময় তারা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর হামলারও অভিযোগ তোলেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন,
“শিক্ষার্থীরা তাদের কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছিল। আমি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করি এবং তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে জানাতে বলি। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা আমার কার্যালয়ে এসে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে। আমি এটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়ের নিকট প্রেরণ করেছি। একই সাথে শিক্ষার্থীদের রাস্তা ছেড়ে মনোযোগ সহকারে বাকি পরীক্ষাগুলোর প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।”
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি প্রদান শেষে শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।