আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:- কুড়িগ্রাম জেলার চর রাজিবপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন বিএনপির আসন্ন কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দলীয় গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, স্বজনপ্রীতি, সরকারি চাকরিজীবীদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা এবং কমিটিতে অন্য রাজনৈতিক দলের কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিল আয়োজনের দাবিতে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
গত ৭ জুলাই মোহানগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোঃ বুলবুল আহমেদ এই আবেদনটি দাখিল করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১০ জুলাই রাজিবপুর সদর ইউনিয়ন, ১১ জুলাই কোদালকাটি ইউনিয়ন এবং ১২ জুলাই মোহানগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান ও সদস্য সচিব মো. আব্দুল হাই দলীয় গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নীতিমালা উপেক্ষা করে কাউন্সিল পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে চারটি প্রধান অনিয়মের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
আবেদনকারীর দাবি, বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডের ৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে ইউনিয়ন কাউন্সিলের প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার কথা। কিন্তু এ নিয়ম অনুসরণ না করে মাত্র ১১ সদস্যের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দলীয় গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটিতে বিএনপির সক্রিয় নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ ছানোয়ার হোসেন ও মোঃ শাহিনুল ইসলাম এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ মনিরুজ্জামান ও মোঃ এমদাদুল হককে জামায়াতের সক্রিয় কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ আবু শামা ও মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ শামিম, মোঃ সাইদুর ও মোঃ ফুল মিয়াকে আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত আবেদনে একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মোহানগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে স্বামী-স্ত্রী মোঃ ফারুক হোসেন ও মোছাঃ রেখা, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আপন দুই ভাই মোঃ বেলাল হোসেন ও মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডে স্বামী-স্ত্রী মোঃ মোহাম্মদ আলী ও মোছাঃ চায়না খাতুনকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। এতে সাংগঠনিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, চার সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মোঃ সামসুল আলম এবং সদস্য মোঃ আব্দুর রাজ্জাক রাজিবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে রাজনৈতিক দলের নির্বাচন পরিচালনায় তাদের সম্পৃক্ততা বিধিবহির্ভূত বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, কাউন্সিলকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মোঃ বুলবুল আহমেদ বলেন, এসব অনিয়মের কারণে প্রকৃত ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে কাউন্সিলের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি কাউন্সিলের দিন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এ অবস্থায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৫১ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন নিশ্চিত করে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য কাউন্সিল আয়োজনের জন্য কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
আবেদনের অনুলিপি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষ, রাজিবপুর উপজেলা বিএনপি, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাব, রাজিবপুর প্রেসক্লাব এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক সংগঠনের কাছেও পাঠানো হয়েছে।