বুধবার, জুলাই ১, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   সারাদেশ
বন্যার পানিতে ডুবেছে বাদাম ক্ষেত, কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগের ভূমিকায় কৃষকের ক্ষোভ
  Date : 01-07-2026
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-  টানা বৃষ্টিতে উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের বাদাম ও সবজিখেত তলিয়ে গেছে। ক্ষতি কমাতে পানির নিচ থেকে আধা পাকা বাদাম তুলে এনে সড়কে শুকাচ্ছেন কৃষকেরা। এমন পরিস্থিতির মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সবজিবীজ বিতরণ কর্মসূচি ঘিরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, এই মুহূর্তে বীজ নয়; প্রয়োজন বন্যার পূর্বাভাস, আশ্রয় ও ত্রাণ।
 
তিস্তার ভাঙনে নিজের জমি হারিয়ে অন্যের এক একর জমি ইজারা নিয়ে বাদাম চাষ করেছিলেন কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার চর খিতাবখাঁ গ্রামের কৃষক মোঃ এরশাদুল হক (৬০)। কিন্তু বন্যার পানিতে তাঁর পুরো খেত তলিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে আধা পাকা বাদাম পানির নিচ থেকে তুলে এনে শুকাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ দিলে ফসল খারাপ হয়নি। কিন্তু বন্যায় সইল (সহ্য) না। কাঁচা বাদাম তুলে আনতে হইল। অর্ধেক পাকা, অর্ধেক কাঁচা অবস্থায় পানির নিচ থেকে তুলছি। রোদ ভালো না হলে শুকাবে না, বেশির ভাগই নষ্ট হবে।’
 
পানি বাড়ার পর রাজারহাট উপজেলা প্রশাসন বা কৃষি বিভাগের কেউ কৃষকদের খোঁজ নেয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। এর মধ্যে গতকাল সোমবার বিকেলে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে তিস্তাপাড়ে সবজিবীজ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ তানজিলা তাসনিম ও রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ সাইফুন্নাহার সাথী উপস্থিত ছিলেন। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে কৃষি বিভাগের এই কার্যক্রম সময়োপযোগী নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কৃষকেরা।
 
খিতাবখাঁ-বুড়িরহাট এলাকার বাসিন্দা মোঃ আবদুর রশীদ (৫৫) বলেন, ‘তিস্তার পানি হু হু করি বাড়বার নাগছে। চিন্তায় হামরা ঘুমবার পাই না। আর ইউএনও সবজির বীজ নিয়ে আসছে। এই সময় হামার দরকার বন্যার পানি কত বাড়বে, আশ্রয় কোথায় পাব, ত্রাণ কবে আসবে, এসব খবর।’
 
যোগাযোগ করলে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ তানজিলা তাসনিম বলেন, ‘বন্যায় পানিবন্দী মানুষের জন্য আমি কী পরামর্শ দেব?’ তিনি বলেন, ‘সবজির বীজ বিতরণ কৃষি বিভাগের কার্যক্রম। আমি শুধু সঙ্গে এসেছি।’
 
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের খোঁজখবর না নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ফসলের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বন্যায় তলিয়ে যাওয়া বাদাম বেশিক্ষণ পানির নিচে রাখা যাবে না। পানি পুরোপুরি নামার অপেক্ষা না করে দ্রুত তুলে ফেলতে হবে। এতে পচন ও অঙ্কুরোদ্‌গমের ঝুঁকি কমবে। ভেজা বাদাম কোনোভাবেই স্তূপ করে রাখা যাবে না। ডাল থেকে আলাদা করে পাতলা করে রোদে শুকাতে হবে। রোদ না থাকলে বাতাস চলাচল করে এমন উঁচু ও শুকনা স্থানে ছড়িয়ে রাখতে হবে।
 
আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, উজানের ঢল কমায় কুড়িগ্রাম জেলার সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। কুড়িগ্রাম জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ৫৭ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 4
  
  সর্বশেষ
আদালতের রায়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি: আসলাম চৌধুরী
আধুনিক ও টেকসই কৃষি উন্নয়ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, অধ্যক্ষ মশিউর রহমান এমপি
বার বার ভাঙ্গনে আঁখি হারিয়েছে শেষ সম্বলও, বিস্তৃর্ণ খোলা আকাশ আজ তার ঘরের ছাদ
এখন নিঃস্ব হইয়া গেছি। কোনোমতে খায়া না খায়া দিন কাটাই

Md Reaz Uddin Editor & Publisher
Editorial Office
Kabbokosh Bhabon, Level-5, Suite#18, Kawran Bazar, Dhaka-1215.
E-mail:manabadhikarkhabar11@gmail.com
Tel:+88-02-41010307
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-41010308