| |
| আদালতের রায়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি: আসলাম চৌধুরী |
| |
|
|
|
|
|
|
|
| |
| |
|
| |
| |
মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও পাহাড়তলী) আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হলেও ‘ঋণ খেলাপি’ হওয়ার কারণে প্রার্থিতা বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে নির্বাচিত এমপি হিসেবে আসলাম চৌধুরীর শপথ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর এক ভিডিও বার্তায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী দাবি করেছেন, এই রায়ের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি। তবে একই সাথে তিনি মন্তব্য করেন, এই রায়ের মাধ্যমে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে।
আইনি লড়াইয়ের পটভূমি
আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের এই আইনি প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ। ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহ নিচে তুলে ধরা হলো:
- মনোনয়ন বৈধতা: গত ৩ জানুয়ারি ঋণ খেলাপির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রিটার্নিং কর্মকর্তা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
- ইসি ও হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ: এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে, যা পরে খারিজ হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট আবেদন করা হলে গত ২৭ জানুয়ারি তাও খারিজ করে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়।
- সুপ্রিম কোর্টের লিভ টু আপিল: হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিল করেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ আবেদনটি মঞ্জুর করে। তবে আদালত নির্দেশ দেয় যে, আসলাম চৌধুরী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, কিন্তু আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।
- ভোটের ফলাফল: ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীকে ৫৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইসি ফলাফল স্থগিত রাখায় তার শপথ গ্রহণ আটকে থাকে।
- চূড়ান্ত রায়: পরবর্তীতে আসলাম চৌধুরী ফলাফল প্রকাশ ও শপথের অনুমতি চেয়ে এবং আনোয়ার সিদ্দিকী, ব্যাংক এশিয়া ও যমুনা ব্যাংক আলাদা আবেদন করলে আপিল বিভাগে শুনানি শেষে মঙ্গলবার এই চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়।
-
আসলাম চৌধুরীর বক্তব্য:
"আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো আসেনি। পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর আইনি কোনো বিষয় থাকলে আমাদের রিভিউ করার সুযোগ থাকবে। রিভিউর মাধ্যমে আমার বিশ্বাস জনগণের রায়ের প্রতিফলন হবে এবং আমরা বিজয়ী হব, ইনশাআল্লাহ।"
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীর ভাগ্য অনিশ্চিত
আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত রায়ে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করা হলেও, ওই আসনে ৫৩ হাজার ভোটে হেরে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, নাকি সেখানে নতুন করে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সীতাকুণ্ড উপজেলায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। বিকেল থেকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার ওপর গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ তৈরি করে। এর ফলে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যার পর আন্দোলনকারীরা সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
|
| |
|
|
|