মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে আপিল বিভাগ আজ মঙ্গলবার এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন। একই আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর করা আপিল মঞ্জুর করে এই রায় দেওয়া হয়। রায়ের পর এখন আলোচনা শুরু হয়েছে—এই আসনে কি আবার নির্বাচন হবে, নাকি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে?
মামলার প্রেক্ষাপট ও নির্বাচন
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আসলাম চৌধুরী অংশ নেন এবং বেসরকারি হিসাবে তিনি সর্বোচ্চ ভোট পান। অপরদিকে একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট লাভ করেন। তবে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত ছিল।
আইনজীবীদের তথ্যমতে, এই মামলায় মূল ইস্যু ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিনে আসলাম চৌধুরীর স্ট্যাটাস (তিনি ঋণখেলাপি কি না) কেমন ছিল। আজ আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ অবৈধ ঘোষিত হয়েছে, যার ফলে তিনি অযোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৪ আসনের ভবিষ্যৎ কী?
আসলাম চৌধুরী অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় এই আসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আইনি অঙ্গনে দুটি মত ও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে:
-
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীর জয়: জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এক ব্রিফিংয়ে জানান, সাধারণত কোনো আসনে প্রথম হওয়া ব্যক্তি অযোগ্য হলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করাই সাধারণ নিয়ম। তবে আপিল বিভাগ এই বিষয়ে বিশেষ কোনো নির্দেশনা দিচ্ছেন কি না, তা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে বিস্তারিত জানা যাবে।
-
পুনর্বার নির্বাচন ও আসলাম চৌধুরীর সুযোগ: অপরদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, একজন ব্যক্তির একটি নির্দিষ্ট সময়ের অযোগ্যতা সারা জীবন থাকে না। পূর্ববর্তী নির্বাচনে যে কারণে আপিলটি মঞ্জুর হলো, তার জন্য আসলাম চৌধুরী হয়তো এই নির্বাচনের ফলাফল ভোগ করতে পারবেন না। তবে পরবর্তীতে এই আসনে আবার নির্বাচন হলে এবং তিনি যদি সেই অযোগ্যতা কাটিয়ে যোগ্য হন, তবে তাঁর প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না।
চট্টগ্রাম-৪ আসনের চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ ও পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক কী হতে যাচ্ছে, তা আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পরই পুরোপুরি পরিষ্কার হবে।