মােঃ জানে আলম সাকী ঢাকা:- ৬ দিনের দ্বিপাক্ষিক ও রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল শুক্রবার রাতে চীনের বেইজিং থেকে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে দেশে পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের দিয়াওতাই হোটেলের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সফরের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশ ও চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর এই সমঝোতা স্মারকগুলো সই হয়।
স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিবরণ:
- মিনিস্ট্রি টু মিনিস্ট্রি (MoU): দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে উভয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- বিনিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি: বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং চীনের বিভিন্ন অংশীজন বা স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর পাশাপাশি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সম্মেলনেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
- রাজনৈতিক সহযোগিতা: `পলিটিক্যাল পার্টি টু পলিটিক্যাল পার্টি` অর্থাৎ রাজনৈতিক দল পর্যায়ের একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং চীনের ক্ষমতাসীন দল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সম্পাদিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি:
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে গত সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই চীন সফরে যান। সফরের শুরুতে তিনি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের দালিয়ানে পৌঁছান। এরপর বুধবার রাতে দালিয়ান থেকে তিনি বেইজিংয়ে আসেন। দালিয়ান থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে তিনি হাই স্পিড (বুলেট) ট্রেনে ভ্রমণ করেন।
বেইজিংয়ে অবস্থানকালে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
চীন সফরের আগে গত ২১ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দু`দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকেই তিনি চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সফর শেষে বেইজিং ছাড়ার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকে বিদায় জানান চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ইউয়ে জিয়াওইয়ং।