মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- খুচরা পর্যায়ের পর এবার পাইকারি বিদ্যুতের দামও কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এই বিষয়ে নতুন আদেশ জারি হতে পারে। তবে ঠিক কতটুকু দাম কমানো হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সোমবার (২২ জুন) বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ পাইকারি বিদ্যুতের দাম কমানোর এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কেন এই উদ্যোগ?
গত ৩ জুন বিইআরসি পাইকারি ও খুচরা— উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু এর ঠিক পরদিনই (৪ জুন) কমিশন সেই সিদ্ধান্ত সংশোধন করে আবাসিক গ্রাহকশ্রেণির লাইফলাইন (০-৫০ ইউনিট) এবং প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) গ্রাহকদের জন্য ঘোষিত বাড়তি দাম প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে এই দুই শ্রেণির গ্রাহকদের আগের দামেই বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়।
গ্রাহক পর্যায়ে এই দুই ধাপে দাম আগের মতো বহাল রাখায় বিপাকে পড়ে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো। বিশেষ করে দেশের সবচেয়ে বেশি গ্রাহক থাকা বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে বিতরণ কোম্পানিগুলোর আর্থিক চাপ কমাতে পাইকারি বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের (কমানোর) নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিইআরসি।
লোকসান ও রাজস্ব ঘাটতির চিত্র
কমিশনের সূত্র ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর তথ্য অনুযায়ী:
- মোট রাজস্ব ঘাটতি: দুই ধাপে দাম কমানোর কারণে বিতরণ কোম্পানিগুলোর মোট রাজস্ব আয় প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
- আরইবি`র ক্ষতি: সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আরইবি-র ওপর। তাদের সম্ভাব্য রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা (যা প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি)। আরইবি ইতিমধ্যেই এই রাজস্ব ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করে কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে। অন্যান্য বিতরণ কোম্পানিও একই ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও বিইআরসি চেয়ারম্যানের বক্তব্য
বর্তমানে বিতরণ কোম্পানিগুলোর জন্য নির্ধারিত গড় পাইকারি বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ৩৯ পয়সা। এটিই এখন কিছুটা কমানোর প্রক্রিয়া চলছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান:
"বিষয়টি এখনও পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে এবং কতটুকু মূল্য কমানো হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মূলত আরইবিসহ বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির রাজস্ব ঘাটতি ও আর্থিক চাপ কমাতেই পাইকারি বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
পূর্ববর্তী দামের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ৩ জুনের ঘোষণায় লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা এবং প্রথম ধাপের (৭৫ ইউনিট পর্যন্ত) ব্যবহারকারীদের জন্য ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তী সময়ে ৪ জুন তা প্রত্যাহার করে আগের মূল্য বহাল রাখা হয়।