মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত কক্সবাজারের `পাতলী খাল` পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন।
শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে বিমানযোগে কক্সবাজার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে সরাসরি সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে যান প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে তিনি বৃষ্টির মধ্যেই কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই পুনঃখনন কাজের সূচনা করেন।
বৃষ্টির মাঝেও গ্রামবাসীদের উচ্ছ্বাস
পুনঃখনন উপলক্ষে পাতলী খালের পাড়ে সকাল থেকেই জড়ো হয়েছিলেন স্থানীয় পিএমখালী গ্রামবাসী। মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে খালের পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা উৎসুক জনতা হাত নেড়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তারা ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ বলে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
উপস্থিত ছিলেন যারা
খাল খনন উদ্বোধনের এই বিশেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন:
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ
- পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী
- প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ: ফরহাদ হোসেন আজাদ, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মীর শাহে আলম, মীর মো. হেলাল উদ্দিন, শরিফুল আলম।
- কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।
খালের ইতিহাস ও উপকারিতা
পাতলী খালটি প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই খালের সাথে জড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক স্মৃতি। আজ থেকে ৪৮ বছর আগে, ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পিএমখালীতে এসে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে এই পাতলী খাল খননকাজের সূচনা করেছিলেন। সেই সময়ে খালের পাড়ে তাঁর রোপণ করা একটি খেজুর গাছ আজও স্মৃতির সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, এই ঐতিহাসিক খালটি পুনঃখননের ফলে এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন এবং স্থানীয় কৃষিকাজে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।