রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   সারাদেশ
কুড়িগ্রামে ৯ বছরেও মেরামত হয়নি ভাঙা সেতু, অর্ধলাখ মানুষের দুর্ভোগ
  Date : 14-06-2026
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-  কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায় ভাঙা ব্রিজের কারণে প্রায় ৯ বছর ধরে যাতায়াতে দুর্ভোগে পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা। এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। 
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার হাসপাতাল মোড় থেকে তবকপুর ইউনিয়নের বড়ুয়া তবকপুর বাজারগামী পাকা সড়ক। এই সড়ক ধরে পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বে বড়ুয়া তবকপুর বাজার। বাজারের কাছে পাকা সড়কের ওপর প্রায় ১ কোটি টাকায় নির্মিত সেতুটি ভেঙে যায় ৮ বছর আ‌গে। ২০১৮ সালের বন্যায় পিলার ভেঙে সেতুটি উল্টে যায়। সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে সৃষ্টি হয় বিশাল গর্ত। ভেঙে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেই থেকে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্কুল শিক্ষার্থীসহ প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৯ বছর ধরে চলা ভোগান্তি নিরসনে এগিয়ে আসেনি কেউ। সড়কের বিচ্ছিন্ন ওই স্থান মেরামত কিংবা নতুন সেতু নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে হতাশার সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 
স্থানীয়রা জানান, হাসপাতাল মোড় থেকে বড়ুয়া তবকপুর হয়ে তবপপুর ইউনিয়নের রসুলপুর চুনিয়ারপার মোড় পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার পাকা সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর নির্মাণ করে। সড়কের পাঁচ কিলোমিটার অংশে বড়ুয়া তবকপুর বাজারের কাছে নির্মিত সেতুটি তৈরির চার বছর পর ২০১৮ সালে বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে যায়। এরপর থেকে চলাচলে ভোগান্তি পোহাচ্ছে কয়েক হাজার মানুষ। মানববন্ধন, সংবাদ প্রকাশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ভোগান্তি থেকে মুক্তি মেলেনি তাদের। 
উলিপুর প্রান্ত থেকে বিভিন্ন যানবাহনে করে মানুষজন এসে সেতুর উত্তর প্রান্তে নামছেন। কেউ ড্রা‌মের ভেলা ক‌রে আবার কেউ কৃ‌ষিজ‌মির আইল ধ‌রে অপর প্রা‌ন্তে পৌঁছা‌চ্ছেন। এরপর অবশিষ্ট পথ হেঁটে গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন। নারী-পুরুষ, শিশু কিংবা ব্যবসায়ীরা একই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। 
স্কুল শিক্ষার্থী মাহিন, রিপন, সোহাগসহ অনেকেই জানায়, আমরা ভয়ে ভয়ে স্কুলে যাই। এই ড্রামের ভেলা দিয়ে প্রায় প্রতিদিন যেতে হয়। কখন জানি পানিতে পড়ে যাই। তাই মাঝে মাঝে স্কুলে যাই না। 
তবকপুর ইউনিয়নের বয়ুয়া তবকপুর এলাকার মোছাঃ আছিয়া বেগম (৫০) বলেন, এই সেতুটি কয়েক বছর ধরি ভাঙি পড়ি আছে। কাইয়ো দেখে না। অসুস্থ মহিলা রোগী হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খুব সমস্যা হয়। 
উলিপুর থেকে নিজের দোকানের মালামাল কিনে নিয়ে আসা পথচারী মোঃ রবিন মিয়া (৫০) বলেন, আট বছর ধরে সেতু ভেঙে পড়ে আছে। চলাচল করা যায় না। আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। লোকজন পারাপারে সমস্যা হয়। মালামাল পরিবহন আমরা করতে পারি না। একজন যদি অসুস্থ হয় তার চিকিৎসা করাতে একটা যে অ্যাম্বুলেন্স আসবে, সেই উপায়ও নেই। ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার ঘুরে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। 
স্থানীয় মোঃ জামাল মিয়া, মোঃ আতিকুর রহমান, মোঃ আব্দুল আজিজসহ অনেকেই বলেন, এই সড়ক ধরে স্কুলে অনেক শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। অনেক ঝুঁকি নিয়ে শিশুদের যেতে হয়। ড্রামের ভেলা দিয়ে চলাচল করতে হয়। আজ নয় বছর ধরে এই ভোগান্তি চলছে। নতুন ব্রিজ চেয়ে অনেকবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কাজ হয় না।  
উলিপুর উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার জানান, যেহেতু অনেক আগে থেকে সেতুটি অকেজো, তাই নতুন সেতুর প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে। 
 
 
 


সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 3
  
  সর্বশেষ
আদ-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে আমার পেছনে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ট্যাক্স কমানোর বাজেটও বিরোধী দল মানে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বাবার স্মৃতিবিজড়িত `পাতলী খাল` পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

Md Reaz Uddin Editor & Publisher
Editorial Office
Kabbokosh Bhabon, Level-5, Suite#18, Kawran Bazar, Dhaka-1215.
E-mail:manabadhikarkhabar11@gmail.com
Tel:+88-02-41010307
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-41010308