বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   সারাদেশ
এফসিপিএস পরীক্ষার নতুন নিয়ম ও প্রাসঙ্গিক বাস্তবতা: ইরানের অভিজ্ঞতার আলোতে পর্যালোচলা
  Date : 04-06-2026

মােঃ জানে আলম সাকী, ঢাকা:- বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস)-এর পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি ‘এফসিপিএস’ পরীক্ষা নিয়ে একের পর এক নতুন নিয়ম জারি করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক এসব পরিবর্তন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে যেমন হতাশা তৈরি করেছে, তেমনি সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। দীর্ঘ সময় ইরানে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে সেখানকার মেডিকেল পরীক্ষা ব্যবস্থার সাথে আমাদের দেশের এফসিপিএস পরীক্ষার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছেন এক ভুক্তভোগী চিকিৎসক (জেএইচ)।

​তার মূল্যায়নে আমাদের দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রধান ৫টি সংকট এবং ইরানের সফল বাস্তবতার চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

​১. প্রশ্নপত্রের সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের অভাব

​ইরানে প্রতি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের পাস করানো হয়। কিন্তু বাংলাদেশে বছরে দু’বার অনুষ্ঠিত এফসিপিএস পরীক্ষার প্রশ্নের কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড আছে বলে মনে হয় না। কখনো কোনো বিষয়ে ১০০ জন পাস করেন, আবার কখনো মাত্র ১০ জন। এতে স্পষ্ট হয় যে, প্রশ্ন কখনো অতিরিক্ত সহজ, আবার কখনো খুব কঠিন হয়। মূলত শিক্ষার্থীদের বারবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার একটা ফাঁদ তৈরি করে রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

​২. দ্রুত উত্তর ও ফলাফল প্রকাশে স্থবিরতা

​ইরানে সেন্ট্রাল মেডিকেল পরীক্ষাগুলো হওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরের গড় হিসেব করে পাসের হার (পার্সেন্টেজ) নির্ধারণ করা হয়। এমনকি পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশ্নপত্রের সঠিক উত্তর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে দেওয়া হয়। অথচ আমাদের দেশে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীরগতির।

​৩. অভিযোগের সুযোগ ও সঠিক মূল্যায়নের অভাব

​ইরানের পরীক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্ন বা উত্তর নিয়ে শিক্ষার্থীদের কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলে, তারা রেফারেন্সসহ ২ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানাতে পারে। রেফারেন্স সঠিক হলে ভুল প্রশ্নটি বাতিল করা হয় কিংবা সবাইকে তার পূর্ণ নম্বর দেওয়া হয়। আবার কোনো প্রশ্নের দুটি উত্তর সঠিক হলে, দুটিকেই সঠিক ধরে নম্বর দেওয়া হয়।

​এফসিপিএস-এ যেহেতু ২১০ নম্বরে পাস, তাই প্রতিটি পয়েন্ট এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ আমাদের দেশে সঠিক মূল্যায়নের অভাবে মাত্র ১ নম্বরের জন্য অনেককে বারবার পরীক্ষায় বসতে হয়।

​৪. ফলাফল দেখার অতিরিক্ত ফি

​ইরানে পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের পর ওয়েবসাইটেই ফলাফল প্রকাশ করা হয় এবং এটি দেখতে কোনো বাড়তি টাকা লাগে না। অথচ আমাদের দেশে এফসিপিএস পরীক্ষার জন্য ১১ হাজার টাকা নেওয়ার পর, আবার ফলাফল দেখার জন্য আলাদাভাবে ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটি শুধু দৃষ্টিকটূই নয়, বরং এক ধরনের চরম অন্যায় ও অযৌক্তিক নিয়ম।

​৫. শিক্ষকদের জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি

​ইরানের মেডিকেল শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো পরীক্ষায় পাসের হার নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে কম হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষকদের `শোকজ` করা হয়। শিক্ষার্থীদের পড়ানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেই জবাবদিহিও করতে হয় তাদের। আমাদের দেশে এমন জবাবদিহিতার সংস্কৃতি না থাকায় পুরো দায়ভার এসে পড়ে পরীক্ষার্থীদের ওপর।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 43
  
  সর্বশেষ
এফসিপিএস পরীক্ষার নতুন নিয়ম ও প্রাসঙ্গিক বাস্তবতা: ইরানের অভিজ্ঞতার আলোতে পর্যালোচলা
খাঁন জাহান আলীর মাজারের কুমির স্থানান্তর: খাদেমদের ক্ষোভ ও ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাগত সাধারণের
পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শেষে, রায় ৭ জুন
রামিসা ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক ৪ জুন

Md Reaz Uddin Editor & Publisher
Editorial Office
Kabbokosh Bhabon, Level-5, Suite#18, Kawran Bazar, Dhaka-1215.
E-mail:manabadhikarkhabar11@gmail.com
Tel:+88-02-41010307
Mobile: +8801978882223 Fax: +88-02-41010308