খোকন মাহমুদ মানবাধিকার খবর ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ভালুকায় হঠাৎ করেই (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামীলীগের উপজেলা কমিটি গঠন নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এমন খবরে সোস্যাল মিডিয়ায় চলছে তুলপার, আলোচনা-পর্যালোনাও। কমিটি গঠন নিয়ে যতটা আলোচনা হচ্ছে তার চেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে কে আসছেন আ.লীগের নেতৃত্বে। আদৌ কমিটি হবে কি না এই নিয়ে সুষ্পষ্ট কোন বক্তব্য বা তথ্য পাওয়া নাগেলেও কর্মী সমর্থকরা তাদের পছন্দের নেতাকেই চাচ্ছেন নেতৃত্বে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত পোষ্ট ও কমেন্টে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন সাবেক এমপি এম.এ ওয়াহেদ এর নাম। চলমান অবস্থায় যেখানে আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে সেখানে উপজেলা কমিটি গঠনের প্রসঙ্গটি রাজনৈতিক অঙ্গণে নতুন করে আলোচনার খুড়াক জুগিয়েছে। চলছে বিশ্লেষণ, রয়েছে মিশ্রপ্রক্রিয়াও। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আইনগতভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আ.লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর কতটা সুযোগ আছে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের পর বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, আ.লীগকে পুরোপুরি রাজনৈতিক মাঠের বাইরে ঠেলে দেয়া কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক নাও হতে পারে। ফলে মাঠপর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক সহনশীলতার একটি পরিবেশ তারা দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে বিএনপির বহুদলীয় ও উদার গণতান্ত্রিক যে সংস্কৃতি রয়েছে তাকে প্রসারিত ও সমৃদ্ধ করবার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বিএনপি হয়তো তা কাজে লাগাতে পারেন। এদিকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর রাজনীতিতে ভারসাম্য আনার জন্য বিএনপি তথা সরকার হয়তো কৌশলগত কারণে আ.লীগকে কিছুটা ছাড় দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, ২৪এর ৫আগস্ট পটপরিবর্তনের পর সারাদেশের ন্যায় এই উপজেলা আ.লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই আত্নগোপনে চলে যান। আবার কেউ কেউ গ্রেফতার হয়ে জেল-হাজতে রয়েছেন। তবে আত্নগোপনে থাকলেও তারা সোস্যাল মিডিয়ায় বেশ সরবই ছিলেন। এই অবস্থায় কমিটি গঠনের গুঞ্জনটি বেশ কৌতুহলের সৃষ্টি করেছে।
কমিটি গঠন ও নেতৃত্বের আলোচনায় এমএ ওয়াহেদ এর নাম শীর্ষে থাকার কারণ খোঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসে, মানবিক ও দায়িত্বশীল নেতার বিস্ময়কর তথ্য। সুযোগ থাকার পরেও দায়িত্ব বা কর্তব্য এড়িয়ে না গিয়ে বরং আরোও বেশি মানবিক ও দায়িত্বশীল হয়ে সহায়তার হাতকে প্রসারিত করেছেন এম.এ ওয়াহেদ। প্রবাসে থেকে দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের বিপদের দিনে সার্বক্ষনিক খোঁজ-খবর রাখাসহ উজার করে দিয়েছেন নিজের কষ্টার্জিত অর্থ ভান্ডার। প্রায় ৫শতাধিক নেতাকর্মীকে আইনি সহায়তাদানসহ কয়েক হাজার পরিবারকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যে কারণে নেতাকর্মীসহ আওয়ামী পরিবারের মধ্যমণিতে পরিণত হয়েছেন তিনি।
সোস্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত কয়েকটি পোষ্ট ও কমেন্ট তুলে দরছি, ফয়সাল আহমেদ কমেন্টে লিখেন, দুঃসময়ে, দূর্দিনে এম.এ ওয়াহেদকে ছাড়া নির্যাতিত, নিপীড়িত নেতাকর্মীদের পাশে আর কাউকেই পাওয়া যায়নি। উপজেলা আ.লীগের সভাপতি হওয়ার মতো একমাত্র ব্যক্তি তিনিই।
শাহ আলম বলেন, কমিটি যখন হবে, দানবীর ও মানবিক নেতা, সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাবেক এমপি এমএ ওয়াহেদকে সভাপতি নির্বাচিত করা জরুরী মনে করি।
ইব্রাহিম খলিল বলেন, ২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দলের এই ক্লান্তিলগ্নে এম এ ওয়াহেদ সূদুর প্রবাস থেকে আ.লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নিপিড়ীত, নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে থেকে কারাবন্দী নেতাকর্মীদের আইনী ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ পরিবারের সার্বিক খোঁজ খবর নিয়েছেন। তার নেতৃত্ব ও মানবিকতা দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, উপজেলা আ.লীগ এর সভাপতি হিসেবে এমএ ওয়াহেদ এর কোন বিকল্প নেই।
মোঃ নুরে আলম সিদ্দিকী লিখেন, দেশের জনগণের একটা বড় অংশ আ.লীগকে সমর্থন করে, সেখানে আ.লীগের কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা হবে এটাই স্বাভাবিক। আ.লীগের কমিটি গঠন হলে সর্বোচ্চ পদে এম.এ ওয়াহেদকে প্রতিষ্ঠিত করার দাবীও করেন তিনি।
ইকবাল তালুকদার দাবী করেন, কারা নির্যাতিত নেতাকরীদেরকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে ভালুকা উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন হয়েছিল। এরপর প্রায় ২০বছর পর, ২০২২ এর ৩০নভেম্বর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, এম.এ ওয়াহেদ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১১ভালুকা আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এম.এ ওয়াহেদ ২৪ এর জুনে বাজেট অধিবেশন শেষ করে ব্যবসায়িক কাজে বিদেশে যান।
আগস্টে দেশে ফিরে আসার কথা থাকলেও ৫আগস্টের পট পরিবর্তন ও পরবর্তীতে তার নামে একাধিক মামলা হওয়ায় তিনি দেশে আসতে পারেননি।
কিন্তু প্রবাসে থেকে দেশে থাকার মতোই কর্মীদের পাশে থেকেছেন সার্বক্ষনিক সময়।
অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম খান বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহ রাখতে আ.লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই সময়ে কমিটি হলে নেতাকর্মীদের মনোবল শক্ত হবে।
এদিকে যদি ভালুকাতে আ. লীগের কমিটি হয় তাহলে, এম.এ ওয়াহেদকে আহবায়ক এবং গোলাম মোস্তফা, কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনু (বর্তমানে হাজতে) ও মনিরা সুলতানা মনিসহ ১০/১২ জন যুগ্ম আহবায়ক করে কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান। এছাড়াও এবিএম আফরোজ খান আরিফ, আবুল কালাম আজাদ ও রফিকুল ইসলাম পিন্টুর নামও আলোচনায় রয়েছে।
তবে নেতাকর্মীরা চান ঐক্যবদ্ধ আ.লীগ।
উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতার সাথে যোগাযোগ করা হলে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ফেসবুকে উপজেলা আ.লীগের কমিটি গঠনের গুঞ্জনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসছে, আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। সময়মতো আমরা প্রতিক্রিয়া জানাবো।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভালুকা উপজেলা শাখার আমীর ফজলুল হক পাঠান বলেন, আইনগতভাবে প্রকাশ্যে আ.লীগের কোন কার্যক্রম চালানোর সুযোগ নাই। তবে তারা তাদের মতকরে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতেই পারে।
এখন দেখার বিষয় সরকার ও বিএনপি আ.লীগের সাংগঠনিক রাজনীতি নিয়ে কি ভাবছে। স্থানীয় নেতৃত্বইবা বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন। সেটি দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।