খোকন মাহমুদ মানবাধিকার খবর ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার শিমুলতলী মোড় থেকে উচাখিলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকা এই সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
সড়কের বর্তমান চিত্র সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিমুলতলী থেকে উচাখিলা পর্যন্ত দীর্ঘ এই পথের পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে অসংখ্য বড় বড় খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে ডোবার মতো রূপ নেয়, আর রোদে ধুলোবালিতে অন্ধকার হয়ে যায় চারপাশ।
যানবাহন চলাচল: খানাখন্দের কারণে রিকশা, অটো-রিকশা কিংবা ভ্যান উল্টে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। ভারি যানবাহন চলাচল এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সময় ও খরচ: যেখানে এই পথটুকু পাড়ি দিতে ১৫-২০ মিনিট লাগার কথা, সেখানে এখন সময় লাগছে এক ঘণ্টারও বেশি। বেড়েছে যানবাহনের ভাড়াও। কৃষকদের হাহাকার এই সড়কটি মূলত ব্রহ্মপুত্র চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য ‘লাইফলাইন’। চরাঞ্চলে উৎপাদিত সবজি, ধান এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য ঈশ্বরগঞ্জ সদর ও ময়মনসিংহে নেওয়ার প্রধান পথ এটি। "রাস্তার যে অবস্থা, কোনো গাড়ি চরে আসতে চায় না। আসলেও দ্বিগুন ভাড়া চায়। বস্তা বস্তা সবজি নিয়ে যখন ভ্যান উল্টে যায়, তখন আমাদের সব লাভ খানাখন্দে পড়ে থাকে।" — জনৈক স্থানীয় কৃষক পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। সময়মতো বাজারজাত করতে না পারায় অনেক সময় সবজি পথেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা তাদের চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। জনজীবনে প্রভাব সড়কটির বেহাল দশার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কোনো শেষ নেই: রোগী পরিবহন: মুমূর্ষু রোগী কিংবা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হাসপাতালে নেওয়া এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের নাম। ঝাকুনির কারণে পথেই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবী: স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। স্থানীয়দের দাবি এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে এই সড়কটি সংস্কারের কোনো কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝেমধ্যে ইটের খোয়া দিয়ে তালি দেওয়া হলেও তা কয়েক দিনেই আবার উঠে যায়। স্থানীয় জনতা ও কৃষকদের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই ১১ কিলোমিটার সড়ক টেকসইভাবে সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। উপেক্ষিত চরাঞ্চলের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই এখন একমাত্র প্রত্যাশা।