খোকন মাহমুদ : ফেনীর সেই আলোচিত ইমাম মাওলানা মুজাফফর আহমদ জুবায়ের আজ মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অথচ ডিএনএ টেস্টে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। পরে আদালতেও স্বীকারোক্তি এসেছে, কিশোরীর সন্তানের জৈবিক পিতা ছিল তারই আপন ভাই।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, নির্দোষ প্রমাণ হওয়ার আগেই যে মানুষটার সম্মান, চাকরি, পরিবার, মানসিক শান্তি সব শেষ হয়ে গেল, সেগুলো কি আর ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব?
২০১৯ সালের একটি ঘটনার জেরে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ২০২৪ সালে তাকে ধর্ষণ মামলায় জড়ানো হয়। ৩২ দিন কারাভোগ, সামাজিক অপমান, মানুষের ঘৃণা, চাকরি হারানো, মামলা চালাতে পৈতৃক জমি বিক্রি, চারপাশের মানুষের অবিশ্বাস… সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়েন তিনি।
সম্প্রতি ঢাকায় হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ভাঙচুর করেন, অসংলগ্ন আচরণ করেন। পরে পুলিশ ও স্বজনদের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন তিনি চিকিৎসাধীন।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, তিনি কয়েকদিন আগেই সংবাদ সম্মেলনে কান্না করে বলেছিলেন,
“আমি নির্দোষ, কিন্তু সমাজ আমাকে আর গ্রহণ করেনি।”
একজন নির্দোষ মানুষকে যখন সমাজ অপরাধী বানিয়ে ফেলে, তখন আদালতের রায়ও অনেক সময় তার জীবন ফিরিয়ে দিতে পারে না।
আজ প্রশ্ন উঠতেই পারে:
মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিচার হবে কি? হারানো সম্মান কি ফিরবে? তার মানসিক ভাঙনের দায় কে নেবে? সমাজ, প্রশাসন নাকি রাষ্ট্র?
মাওলানা জুবায়ের শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি আমাদের বিচারহীনতা, গুজব সংস্কৃতি আর সামাজিক নিষ্ঠুরতার এক জীবন্ত উদাহরণ। কারণ এই সমাজে অভিযোগ উঠলেই মানুষ অপরাধী হয়ে যায়, কিন্তু নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার খবরটা আর ততটা ছড়ায় না।
এই মানুষটার জন্য দোয়া করুন।
আর অন্তত শিখুন, কোনো অভিযোগ শুনেই কাউকে শেষ করে দেওয়ার আগে সত্যটা জানার চেষ্টা করতে হয়।