| স্টাফ রিপোর্ট :-কুমিল্লায় অপহরণ, চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের আমলজোগ্য ধারাবাহিক পরিকল্পিত অপরাধ সংঘটিত করে চলছে আসামি সহ অজ্ঞাত নামা আসামীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের
সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রের অভিযোগ, প্রশাসনের ছদ্মবেশ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা।
কুমিল্লায় অপহরণ, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, জালজালিয়াতি, হত্যাচেষ্টা, মানহানি ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদানের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পেশাজীবী ও সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র এসব অভিযোগ এনে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় এফআইআর ও আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার পরিচয় ও ছদ্মবেশ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অর্থ আত্মসাৎ, জালজালিয়াতি এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
এ চক্রের সদস্যরা নিজেদের প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মানহানিকর কর্মকাণ্ডেও জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা এফআইআর/জিআর মামলা নং-৪১(৮৫০)/২৪, তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০২৪ মামলায় উক্ত চক্রের সদস্য ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ অপরাধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলে এলাকায় ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করছে এবং বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করছে। পরবর্তীতে একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ এ একটি সিআর মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর-৬১৫/২৬, তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০২৬। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে রেকর্ডভুক্ত করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের ১৪৩, ৩২৩, ৩০৭, ৩৮৫, ৩৬৫, ৪২০, ৫০০, ৩৭৯, ৫০৬(২) এবং ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব ধারার মধ্যে রয়েছে অবৈধ সমাবেশ, মারধর, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, প্রতারণা, মানহানি, চুরি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ।
মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত চক্রটি শুধুমাত্র আর্থিক প্রতারণাই নয়, বরং সামাজিক ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে “শুভ্র সনাতনী” নাম ব্যবহার করে ধর্মীয় উস্কানি ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানোর অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্তদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি পেশাদার দালাল, চাঁদাবাজ, অপহরণকারী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে, যারা বিভিন্ন সময়ে অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করে আসছে।
এ ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর “অভিযোগ অবহিতকরণ করে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন” শিরোনামে একটি লিখিত আবেদনও দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগটি আমলে নিয়ে থানায় রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক। একইসঙ্গে তারা প্রশাসনের কাছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
|