| |
| জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পূর্ণ প্যানেলের জয় ‘সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খান |
| |
|
|
|
|
|
|
|
| |
| |
|
| |
| |
| আজাদ রহমান : ঢাকা আইনজীবী সমিতির বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থক" বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পূর্ণ প্যানেলের জয় জয়াকার ‘ দুদিনব্যাপী নির্বাচনে জয় লাভ করেছে আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খান।চার হাজার ৪৬৮ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত মোহাম্মদ আবুল কালাম খান পেয়েছেন চার হাজার ৪৫ ভোট।তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কুলিয়ে উঠতে পারেননি জামায়াত-এনসিপি প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী এস এম কামাল উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক।সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সহ-সভাপতি পদে মো. আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ পদে মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান (আনিস), সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ইলতুৎমিশ সওদাগর (অ্যানি) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মাহাদী হাসান জুয়েল জয়ী হয়েছেন।এছাড়া লাইব্রেরি সম্পাদক পদে খন্দকার মাকসুদুল হাসান (সবুজ), সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মারজিয়া হীরা, অফিস সম্পাদক হিসেবে মো. আফজাল হোসেন মৃধা, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. সোহেল খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে এ.এস.এম ফিরোজ এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে শফিকুল ইসলাম (শফিক) নির্বাচিত হয়েছেন।সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন এ.এইচ.এম রেজওয়ানুল সাঈদ (রোমিও), ফারজানা ইয়াসমিন, মো. আদনান রহমান, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম (মামুন), মো. সানাউল, মামুন মিয়া, মুজাহিদুল ইসলাম (সায়েম), শেখ শওকত হোসেন ও সৈয়দ সারোয়ার আলম (নিশান)। বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের বিরুদ্ধে ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং, জালিয়াতি ও কারচুপির’ অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স,সংগঠনের মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোটগ্রহণ চলাকালে জাল ভোট প্রদান, বুথের ভিতরে প্রবেশ করে ভোটারদের ব্যালটে জোরপূর্বক সিল মারা, বিরোধী প্যানেলের কমিশনার ও এজেন্টদের বের করে দেওয়া, যাচাই বাচাই ছাড়াই ব্যালট বিতরণ এবং বহু ভোটারের ভোট আগেই জালিয়াতির মাধ্যমে প্রদান করার মত গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ভোট ডাকাতির সামগ্রিক চিত্র।২১ হাজার ৭৮৫ ভোটারের মধ্যে দুই দিনে ৭ হাজার ৬৯ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সেই হিসেবে প্রায় ৩৪ শতাংশ আইনজীবী ভোট দিয়েছেন, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোটার উপস্থিত এবার কম কেন হল, তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন তিনি বলছেন, রাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের ভোট দানে বিরত থাকা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল।তিনি বলেন,“বাংলাদেশ প্রধান দুটি দলে বা গ্রুপে বিভক্ত। এদের মধ্যে একটি গ্রুপ যাদের দলীয় কর্মসূচি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ। ওই গ্রুপটার টপ লিডাররাসহ অ্যাক্টিভিস্টরা ভোটদানে বিরত ছিল। এটি একটি কারণ।এছাড়া দ্বিতীয় কারণ গত দুই দিনের বৈরী আবহাওয়া ।৬৬ শতাংশ আইনজীবী এই ভোট প্রদানে অংশ গ্রহণ করেনি। যে দুই একজন আওয়ামী পন্থী আইনজীবী নিরূপায় হয়ে ভোট দিয়েছে তারা কারো হয়তো বন্ধু,চেম্বার মেট অথবা কাছের কোন আত্মীয়-স্বজন নিবাচনে অংশ নিয়েছে তাই বাধ্য হয়ে এসেছে। ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিরল ঘটনা ঘটেছে, অধিকাংশ কার্যকরী সদস্যের ব্যালটে ১০ জন করে প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা থাকলে ভোটাররা ১০ জনকে ভোট দেয়নি সংখ্যা কমের কারন এবং অনেক ভোটার নৌকার ছবি একে সেখানে ভোট দিয়েছে এসব কারণে ব্যালট বাতিল হয়েছে।গত বুধবার সকাল ৯টায় ঝড়-বৃষ্টির বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দিয়ে সমিতি ভবনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। মাঝে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এবং বৃহস্পতিবার একেই নিয়মে ভোট গ্রহণ চলে।এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল অংশ গ্রহণ করেনি বা করতে পারেনি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে একসঙ্গে নির্বাচন করা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থক আইনজীবীরা এবার একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থক আইনজীবীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল বা ‘নীল প্যানেলে’ এবং জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ১১ দল সমর্থকরা আইনজীবী ঐক্য পরিষদ বা ‘সবুজ প্যানেলে’ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে ২৩টি পদে প্রার্থী হয়েছেন মোট ৫৫ জন। তাদের মধ্যে ২৩ জন করে ৪৬ জন প্রার্থী বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের, বাকি ৯ জন স্বতন্ত্র।চব্বিশের অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবারই প্রথম নির্বাচন হলো ঢাকা বারে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ এবার নির্বাচনে অংশ নেয়নি।স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ ছিল। তাদের নিকট নমিনেশন ফরম বিক্রি না করায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। তবে আওয়ামীলীগ পন্থী অধিকাংশ আইনজীবী ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল, তাদেরকে ভোট কেন্দ্রের আশেপাশে দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪-২৫ মেয়াদে সর্বশেষ ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ সমর্থক সাদা প্যানেল। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিতরা আদালতে আসা বন্ধ করে দেন। সেই পরিস্থিতিতে ওই বছরের ১৩ অগাস্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। এতদিন সেই অ্যাডহক কমিটিতেই চলছিল সমিতির কাজ।প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন। তার নেতৃত্বে ১০ জন কমিশনার এবং ১০০ জন সদস্য নির্বাচন পরিচালনা করেছে।
|
| |
|
|
|